

সরকারি কোটা ব্যবস্থা, যা একসময় ছিলো বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক, আজ সেই কোটা ব্যবহার করে নানা সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সেই তালিকার শীর্ষে। তার বয়স মাত্র ২৭, আয়কর প্রদানও নেই নিয়মমাফিক, তবুও তিনি ‘উপদেষ্টা কোটার’ সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন। এই সরকারি সুবিধাকে ঘিরে এখন তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
২০১৮ সালের সরকারি ঢাবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে উঠে আসা আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। সেই আন্দোলনের মাধ্যমে কোটা বিলুপ্তির দাবিতে সরকার পদত্যাগ করে। তবে বৈষম্যের মূল ‘কোটা’ সরকারি কাজ ও আইন-কানুন থেকে আজো মুছে যায়নি। বরং ‘উপদেষ্টা কোটা’র ছত্রছায়ায় আসিফসহ অনেকেই পাচ্ছেন বিশেষ সুবিধা। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়স হতে হবে ৩০ থেকে ৭০ এবং আয়ের হিসেবে ধারাবাহিক তিন বছরে আয়কর পরিশোধ থাকতে হবে। কিন্তু এসব শর্ত থেকে উপদেষ্টা, মন্ত্রী, স্পিকারদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়। আসিফ মাহমুদ এই শর্ত ছাড়ের আওতায় লাইসেন্স পেয়েছেন।

বয়স নেই, আয়কর নেই : তারপরও আসিফের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স! কোথায় গেলো নিয়মের কড়াই? ছবি : সংগৃহিত।
পিস্তল বা রিভলবারের দাম সাধারণত দেড় থেকে আড়াই লাখ টাকার মধ্যে হয়, যা তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে পাওয়া বেতনের মাধ্যমে সহজেই ক্রয় করতে পারেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনের পর থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অস্ত্র প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি নিরাপত্তা ও গানম্যান থাকা সত্ত্বেও কেন তার অস্ত্রের প্রয়োজন, সে প্রশ্ন থেকে যায়। পুলিশের নিরাপত্তা বহর ও বাড়ির নিরাপত্তাও তাকে সরকার থেকে দেয়া হয়।
সরকারের ঘোষণা অনুসারে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১১ মাস, যার মধ্যে যদি পদত্যাগ না করেন, তবু তার বয়স ৩০ পূর্ণ হবে না। তখন সরকারি কোটা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন তিনি। সে সময় তার নিরাপত্তা ও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের ভবিষ্যত অনিশ্চিত থেকে যাবে। প্রশ্ন থেকে যায়—কোটা আন্দোলনের শীর্ষ নেতা থেকে সুবিধাভোগী হয়ে উঠা আসিফ মাহমুদের এই দ্বৈত চরিত্রের সঠিক ব্যাখ্যা কি? যা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক ছিল, আজ সে নেতারা সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন।