সাংবাদিক শাকিল-রুপা দম্পতিকে চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি

সাংবাদিক রুপা প্যারোল মঞ্জুর পেয়ে স্বামী শাকিল আহমেদসহ চার ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেয়েছেন। কারাগারে আটক সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও তার স্বামী শাকিল আহমেদকে চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ফারজানা রুপার মায়ের মৃত্যুতে এই মুক্তি প্রদান করা হয়। ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে আজ বুধবার তাদের এই সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, আদেশ পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ শাকিল ও রুপাকে পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করে। পরে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মরহুমার লাশ দেখতে নিয়ে যায়।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) জান্নাতুল ফেরদৌস ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্যারোলের আদেশ কার্যকর ছিল এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
সাংবাদিক রুপা প্যারোল সংক্রান্ত ঘটনায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন মানবিক বিবেচনায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, “কারাবন্দি হলেও একজন মেয়ের মায়ের জানাজা বা শেষ দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়া অমানবিক হতো। আদালতের এই পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।”
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, “সাংবাদিক রুপা প্যারোল পেয়ে যে চার ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেয়েছেন, এটি তার প্রতি ন্যূনতম মানবিক সহানুভূতি। আমরা আশা করি, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত তদন্ত করে সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।”
এছাড়া বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এক বিবৃতিতে জানায়, “রুপা ও শাকিলের মতো সাংবাদিকদের প্রতি মানবিক আচরণ বজায় রাখা জরুরি। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে আমরা সবসময় সোচ্চার।”
এই প্রতিক্রিয়াগুলো থেকে স্পষ্ট, সাংবাদিক সমাজ এই সাময়িক মুক্তিকে মানবিকতা ও পেশাগত মর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।
RSF-এর প্রতিক্রিয়া
সাংবাদিক রুপা প্যারোল প্রসঙ্গে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF) এক বিবৃতিতে বলেছে, “ফারজানা রুপার মায়ের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি একটি মানবিক সিদ্ধান্ত, তবে এটি যথেষ্ট নয়। একজন সাংবাদিককে তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য কারাবন্দি রাখা উদ্বেগজনক। RSF বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, সাংবাদিকদের হয়রানি ও দমন-পীড়নের পথ পরিহার করে স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে।”
সংগঠনটি আরও জানায়, সাংবাদিক রুপা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় এবং সাংবাদিকেরা নির্বিঘ্নে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
উল্লেখ্য, গতকাল (মঙ্গলবার) সাংবাদিক ফারজানা রুপার মা ইন্তেকাল করেন।
সাংবাদিক রুপা প্যারোল সংক্রান্ত এই মানবিক সিদ্ধান্তে স্বজনদের পাশে থাকার সুযোগ পেলেন সাংবাদিক দম্পতি।
জামানতের টাকা জমা, দালালকে ৫ হাজার, ১৯ বার অফিসে ঘুরেও মেলেনি বিদ্যুতের মিটার!

কুমিল্লার মুরাদনগরে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য সরকারি ফি ও জামানতের টাকা জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে মিটার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, দ্রুত সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে পল্লী বিদ্যুতের এক কথিত দালালকে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তিন বছর ধরে দফায় দফায় অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
জামানতের টাকা জমার আড়াই বছরেও বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, ১৯ বার অফিসে ঘুরেও মিলেনি সমাধান
ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. আবুল কালাম আজাদ, পিতা- মৃত রোশন আলী। তার বাড়ি গ্রাম ও ডাকঘর: কাজিয়াতল, উপজেলা: মুরাদনগর, জেলা: কুমিল্লা।
প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা যায়, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় নতুন আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। আবেদন অনুমোদনের পর ৩১ মার্চ ২০২৪ তারিখে ১ হাজার ৯২০ টাকা কনজ্যুমার ডিপোজিট (জামানত) জমা দেন। রসিদে অ্যাকাউন্ট নম্বর 22510 এবং সিরিয়াল নম্বর 11042003220 উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু অভিযোগ, সরকারি নিয়মে জামানতের টাকা পরিশোধের পরও আজ পর্যন্ত বিদ্যুতের মিটার বা সংযোগ পাননি তিনি।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “মিটার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে পল্লী বিদ্যুতের দালাল সালামের কাছে প্রায় তিন বছর আগে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। এরপরও কোনো কাজ হয়নি। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ বার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েছি। প্রতিবারই আজ-কাল বলে ঘুরানো হয়েছে। কিন্তু আজও মিটার পেলাম না।”
তার দাবি, বারবার অফিসে গিয়ে সময়, শ্রম ও যাতায়াত খরচ নষ্ট হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক জবাব মেলেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকারি টাকা গ্রহণের পর বছরের পর বছর সংযোগ না দেওয়া এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য পল্লী বিদ্যুতের সেবার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মুরাদনগর সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. আনিসুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং গ্রাহকের সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। গ্রাহক যাতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, জমা দেওয়া অর্থের যথাযথ মূল্যায়ন এবং অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কৃষকের ওপর হামলার অভিযোগ
কালিগঞ্জে কৃষককে পিটিয়ে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে এক কৃষককে পিটিয়ে ও বেধড়ক মারধরের পর মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দেবাড়িয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত কৃষক শফিকুল ইসলাম দেবাড়িয়া গ্রামের রশিদ গাজীর ছেলে। তার পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের মেহেদী হাসান, মাসুদ, ইমরান হোসেন, কাদের, মাহাবুবসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এর আগে একই পক্ষ শফিকুল ইসলামের প্রায় আড়াই বিঘা মাছের ঘের দখল করে নেয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশসহ নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ (গ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তারা মুচলেকা দিয়ে জামিন লাভ করেন। এরপর থেকেই তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কয়েক দিন আগে এক দফা মারধরের পর শনিবার আবারও হামলা চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
শফিকুল ইসলামের স্বজনদের দাবি, হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলার সময় শফিকুলকে রক্ষা করতে গেলে তার বাবা রশিদ গাজী, মা ফাতেমা বেগম এবং চাচা মজিদকেও মারধর করা হয়।
এদিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মদদে হামলাকারীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্তদের একজন মাহাবুব মারধরের ঘটনার বিষয়ে বলেন, “একটু হাতাহাতি হয়েছে।”
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা
সেতু সচিবের পরিদর্শন, সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণে নতুন আশার আলো

সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সচিবের পরিদর্শন
সেতু সচিবের পরিদর্শন ঘিরে আশার আলো দেখছে ঝালকাঠিবাসী। দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর ওপর সম্ভাব্য সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব মো. আবদুর রউফ।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঝালকাঠি কলেজ খেয়াঘাট থেকে স্পিডবোটে নদীপথে পরিদর্শনে বের হন সচিব ও তাঁর সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে তারা নলছিটি উপজেলার ষাইটপাকিয়া, সুতালড়ী এবং ঝালকাঠি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন সুগন্ধা নদীর তিনটি সম্ভাব্য স্থান ঘুরে দেখেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সেতুর অবস্থান, নদীর প্রবাহ, সংযোগ সড়ক, ভূমি পরিস্থিতি এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে সচিবকে অবহিত করেন। সচিবও বিভিন্ন দিক নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুগন্ধা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে ঝালকাঠি, নলছিটিসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নদীর দুই তীরের জনপদে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত সুগন্ধা সেতু বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।



















