লন্ডনে দ্য ডোরচেস্টার হোটেল ঘেরাও: ‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মুক্তি’ দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সফরে তোপ প্রবাসীদের
“চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মুক্তি” দাবিতে লন্ডনের দ্য ডোরচেস্টার হোটেলে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের কার্যত ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান যুক্তরাজ্যভিত্তিক হিন্দু অধিকারকর্মীরা। পুষ্পিতা গুপ্তের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভে কয়েকজন প্রতিবাদকারী অংশ নিয়ে বলেন, “আমরা কয়েকজন হয়েও ভয় ছড়াতে পেরেছি, হোটেল থেকে কেউ বের হওয়ার সাহস পাচ্ছিল না।” এই হোটেল ঘেরাও কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) লন্ডনের বিখ্যাত দ্য ডোরচেস্টার হোটেলের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পুষ্পিতা গুপ্তের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রবাসী হিন্দু সংগঠনের কয়েকজন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা “STOP KILLING HINDUS”, “JUSTICE FOR HINDUS IN BANGLADESH”, “RELEASE ALL HINDU VICTIMS IN BANGLADESH” ও “HINDU HOUSES SET ON FIRE” লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ছবি সম্বলিত ‘STAND FOR FREEDOM’ লেখা সাদা টি-শার্ট পরে প্রতিবাদ জানান। কর্মসূচির মূল দাবি ছিল—বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নিপীড়ন বন্ধ করা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তি।

👉 চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মুক্তি এখন সময়ের দাবি। ছবি: সংগৃহিত।
ভয়ের বাতাবরণে ‘বন্দি’ হোটেল!
মানববন্ধনের পর নিজের ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে পুষ্পিতা গুপ্ত লেখেন:
“দাড়িয়েছি আমরা মাত্র কয়েকজন, তাতেই নাকি হোটেল থেকে কেউ বের হতে পারছে না ভয়ে…
ইউনূসের সিকিউরিটি বললো, ‘তোমরা যে আসবে আমাদের তো কেউ ইনফর্ম করেনি।’
আমি বললাম, ‘আমরা না জানিয়ে এসেছি।’
তারপর তিনবার তিনজন এসে সকলের নাম-পরিচয় নিল।
আরেকজন এসে বলল, ‘কখন যাবেন? উনারা তো বের হতে পারছেন না।’
আমার তখন চলে আসার ইচ্ছা থাকলেও ভাবলাম, আরো কিছুক্ষণ ভয় পাওয়ানো ভালো… বসে থাকি। 😀
আফসোস, তারা আমাদের অ্যারেস্ট করাতে পারল না! 😝😝”
প্রেক্ষাপট:
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি বাংলাদেশের সনাতনী সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। দেশের বাইরেও প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে, যার অংশ হিসেবেই এই লন্ডনের মানববন্ধন।
প্রতিবাদ শেষে আন্দোলনকারীরা জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার এসে তাঁদের নাম ও উদ্দেশ্য জানতে চায়। এমনকি একজন প্রতিনিধি এসে জানতে চান, “আপনারা কখন যাবেন? ভেতরে থাকা ভিআইপিরা তো বের হতে পারছেন না।” এমন প্রতিক্রিয়ার পরও পুষ্পিতা গুপ্ত জানান, “চলে যেতে মন চাইছিল, কিন্তু ভাবলাম আরও কিছুক্ষণ ভয় ছড়ানো যাক!”
“চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মুক্তি”—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে দ্য ডোরচেস্টার হোটেল ঘেরাও কর্মসূচি প্রবাসী সনাতনী সমাজের প্রতীকী প্রতিরোধে রূপ নেয়। শান্তিপূর্ণ হলেও এই কৌশল সরকারের উপর চাপ তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংখ্যালঘু অধিকার প্রশ্নে জোরালো বার্তা পৌঁছে দেয়।



















