প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্যাংকিং ডেস্ক থেকে উদ্যোক্তা—ক্যান্ডেল ব্যবসায় আলো ছড়াচ্ছেন মৌসুমী লোপা

20260422 135750 0000
শাহিন ফকির, পিরোজপুর :

ব্যাংকের ব্যস্ত দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলছেন পিরোজপুরের তরুণ কর্মকর্তা মৌসুমী আফরিন লোপা। বর্তমানে তিনি রুপালী ব্যাংকের পিরোজপুর জোনাল অফিসে কর্মরত। চাকরির ফাঁকেই তিনি চালু করেছেন ‘লোপাস ক্যান্ডেল স্টুডিও’ নামে একটি অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগ, যা অল্প সময়েই স্থানীয়ভাবে সাড়া ফেলেছে।

প্রায় এক বছর আগে শখের বশে ক্যান্ডেল তৈরির প্রতি আগ্রহ জন্ম নেয় তার। সেই আগ্রহকে পেশাদার রূপ দিতে তিনি তিন মাসের একটি অনলাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পেজ খুলে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করেন। শুরুটা সীমিত হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার তৈরি নান্দনিক ও সুগন্ধি ক্যান্ডেল ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে থাকে।

বর্তমানে তার পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের ডেকোরেটিভ ক্যান্ডেল, সুগন্ধি ক্যান্ডেল এবং বিশেষ উপলক্ষভিত্তিক কাস্টমাইজড ক্যান্ডেল। জন্মদিন, বিয়ে কিংবা অন্যান্য অনুষ্ঠানে তার পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। সম্প্রতি পিরোজপুরের একটি লোকজ মেলায় স্টল দিয়ে সরাসরি বিক্রির সুযোগও তৈরি করেন তিনি, যেখানে ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

চাকরির পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরো উদ্যোগটি একাই সামলাচ্ছেন লোপা। কাঁচামাল সংগ্রহ, পণ্য তৈরি, প্যাকেজিং থেকে শুরু করে ডেলিভারি—সবকিছুতেই রয়েছে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা। তার এই নিষ্ঠা ও পরিশ্রম ইতোমধ্যে অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তবে তার লক্ষ্য কেবল নিজের সফলতা নয়। তিনি চান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে। তার বিশ্বাস, দেশে অনেক নারী আছেন যারা দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়েন। ঘরে বসেই এমন সৃজনশীল কাজ তাদের জন্য হতে পারে আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম।

ভবিষ্যতে ‘লোপাস ক্যান্ডেল স্টুডিও’র অধীনে নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তার। এতে অংশগ্রহণকারীরা ক্যান্ডেল তৈরির কৌশল, ডিজাইন, প্যাকেজিং ও অনলাইন মার্কেটিং শিখতে পারবেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করতে পারবেন কিংবা এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

মৌসুমী আফরিন লোপা বলেন, “শুরুটা ছিল শখ, এখন এটি আমার স্বপ্ন। আমি চাই আমার এই পথচলা অন্য নারীদেরও অনুপ্রাণিত করুক। যদি আমার মাধ্যমে কয়েকজন নারী স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও ধৈর্য থাকলে যে কেউ নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন।

প্রিন্ট করুন