প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ৩ দিনের রিমান্ডে

672246585 1486089203529422 4830368904534417780 n
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

 দীর্ঘ এক দশক পর কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

বুধবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন। এর মাধ্যমে বহুদিন ধরে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে নতুন করে তদন্তে গতি সঞ্চার হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে মঙ্গলবার রাতে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা সদর আদালতে হাজির করা হলে তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা শিগগিরই ক্রসম্যাচ করা হবে। তিনি বলেন, তনুর মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, “দীর্ঘদিন পর একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আমি চাই, এই হত্যার সঠিক বিচার হোক এবং দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, “দেশবাসী জানতে চায়, এই হত্যার বিচার হবে কি না। এখন বলতে পারছি, অন্তত একজন আসামি ধরা পড়েছে। আমরা ন্যায়বিচারের আশায় আছি।”

মামলাটি দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তের জটিলতায় আটকে ছিল। গত ১০ বছরে অন্তত ৮০টির বেশি শুনানির তারিখ পার হলেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ সময়ের মধ্যে চারটি সংস্থার সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটির দায়িত্ব পালন করেন।

সম্প্রতি আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনজনের ডিএনএ নমুনা ক্রসম্যাচ করার উদ্যোগ নেয় তদন্তকারী সংস্থা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের একটি জঙ্গলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুরুতে থানা পুলিশ, পরে ডিবি ও সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় অগ্রগতির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রিন্ট করুন