প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

চিকিৎসার আড়ালে ব্যবসা? দেবীদ্বার সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুতর অভিযোগ

1776947749937
আজকের কথা ডেস্ক :

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলার মানুষ চিকিৎসা সেবার জন্য দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করেন। প্রতিদিন ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে সহস্রাধিক রোগী এখানে চিকিৎসা নেন। তবে অতিরিক্ত রোগীর চাপের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন ও কথিত ভেজাল ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লেখার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০৩ নম্বর কক্ষে কর্মরত জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. গোলাম রাশেদের বিরুদ্ধে এক ষাটোর্ধ্ব নারীকে অনুমোদনহীন ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লেখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসা নেওয়ার পর স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে গেলে সেখানে কর্মরতরা জানান, প্রেসক্রিপশনে লেখা দুটি ঔষধ—Inj. Galphar-D3 (300000 IU) ও Cap. Glujoint—অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দেবীদ্বারের বেশ কিছু চিকিৎসক জড়িত। অতীতেও একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। সাম্প্রতিক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই বিষয়টির সাথে স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. গোলাম রাশেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অভিযোগ ওঠার পর তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি স্বনামধন্য ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি (এসআর) বলেন, “কিছু অসাধু চিকিৎসক অবৈধ কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে এসব ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লিখছেন। এতে রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন।”

অন্যদিকে, এক ফার্মেসি মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা এসব ঔষধ রাখতে না চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় মারধরের ভয়ও দেখানো হয়। অথচ একই ধরনের ভালো কোম্পানির ঔষধ ১০০-১২০ টাকায় পাওয়া গেলেও এসব নিম্নমানের ঔষধ ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়।”

এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম বলেন, “উল্লিখিত ঔষধগুলো সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলীনুর বশির বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রিন্ট করুন