প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

শাহবাগ থানায় ১০ সাংবাদিককে রক্তাক্ত করল ছাত্রদল, নীরব পুলিশ

289ee8faa5d35326ac62c293bbf0a271
আজকের কথা ডেস্ক :

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় থানা চত্বরে এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিনা উসকানিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ও ওসি (অপারেশন) খোকন মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে, বুধবার সন্ধ্যা ও রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া এবং ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে পৃথক ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর ও হেনস্থার অভিযোগ ওঠে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি—মানজুর হোছাঈন মাহি, লিটন ইসলাম, শামসুদ্দৌজা নবাব, মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, হারুন ইসলাম, আসাদুজ্জামান খান ও নাইমুর রহমান ইমনসহ আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই পোস্টে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। পোস্টটি নিয়ে বিরোধের জেরে সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষার্থী নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠিতভাবে স্লোগান দিতে দিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পরও পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে আরও বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান উপস্থিতরা।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর কয়েকজন নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

প্রিন্ট করুন