প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিযোগের পরও মিলছে না টাকা, পদ্মা ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রাহকের ক্ষোভ

image 134273 1730253898
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের খুলনা শাখার বিরুদ্ধে জমাকৃত টাকা আটকে রাখার অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী গ্রাহক। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী মো. রবিউল ইসলাম তালুকদার জানান, তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬২ হাজার টাকা জমা থাকলেও গত এক বছর ধরে তা উত্তোলন করতে পারছেন না। নানা অজুহাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা দিতে টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ তার। শাখা ব্যবস্থাপক মাসে ৮ হাজার টাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে গত এক বছরে মাত্র ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি সমাধানের আশায় তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার পাননি।

এদিকে একটি এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের ১৫ হাজার টাকা গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পরিশোধের নির্ধারিত সময় থাকলেও ব্যাংক থেকে টাকা না পাওয়ায় তা পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। এতে এনজিওর লোকজন তার বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করছেন এবং পরিবারসহ তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করছেন বলে অভিযোগ করেন রবিউল ইসলাম।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংকে গিয়ে বারবার যোগাযোগ করলেও শাখা ব্যবস্থাপক তার সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং টাকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো সুরাহা করেননি। বর্তমানে পাওনাদারদের চাপে তিনি বাড়িতে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দ্রুত তার জমানো টাকা ফেরত পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে পদ্মা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা ফাতেমা বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগীর ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা সংরক্ষিত রয়েছে।

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট:
পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকট ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক আমানতকারী সময়মতো তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না এবং বারবার ব্যাংকে ধরণা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়া ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, ঘুষ এবং গ্রাহকের অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। একইসঙ্গে গ্রাহকের অগোচরে ঋণ অনুমোদনের মতো জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে।

ব্যাংকটির বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হওয়ায় আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সহায়তা সত্ত্বেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়ছে এবং অনেকেই তাদের আমানত নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

প্রিন্ট করুন