প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সংস্কারের বাহানায় নির্বাচন ঠেকানোর আশঙ্কায় জুলাই সনদে আপস করে সই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ajkerkotha
আজকের কথা ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংস্কারের নামে যদি নির্বাচন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করা হয়—সে আশঙ্কা থেকেই তাঁরা আপস করে জুলাই জাতীয় সনদে সই করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ ও সংবিধানবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ-এ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংস্কার নিয়ে আলোচনার সময় অনেক বিষয় প্রকাশ্যে বলা হয়নি। “সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচন হতে না দেয়, সেই শঙ্কা থেকেই আমরা আপস করেছি,”—বলেন তিনি।

সংস্কার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীর প্রস্তাব ও আলোচনার মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। এ সময় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনসহ একাধিক বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল এবং ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে।

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারাও সই করেছেন, আমরাও করেছি—আসুন, সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করি।”

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ আদেশ জারির পর তাঁদের দল গুলশানে সংবাদ সম্মেলন করে অবস্থান স্পষ্ট করেছিল এবং সনদের বাইরে কিছু মানতে রাজি নয় বলে জানায়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারটি ভেতরে ও বাইরে—দুই পক্ষের সমর্থনে গঠিত ছিল। একদল ‘যমুনার অভ্যন্তরে’ এবং আরেক দল ‘যমুনার কিনারে’ অবস্থান করছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাক্‌স্বাধীনতার অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার নামে কুৎসা ও অপসংস্কৃতি চলতে থাকলে সমাজের সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

নবীন রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ বা জুলাইয়ের চেতনা রাজনৈতিক ব্যবসার পণ্য বানানো উচিত নয়—এটি সবার।”

এ সময় বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এতে দায়িত্ববোধ বাড়ে, তবে ‘মন্ত্রী ভাব’ নেওয়ার প্রবণতাও তৈরি হয়।

ব্যাংক মালিকানা নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় ভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যাংক দখলের ঘটনা ঘটেছে—কখনও প্রভাব খাটিয়ে, আবার কখনও সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে।

শেষে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের-এর বক্তব্যের জবাব দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা দাবি থাকলেও বাস্তবতা যাচাই জরুরি।


‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পর চাঁদাবাজি ও দখল অনেকাংশে কমেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

প্রিন্ট করুন