মুরাদনগরে অজ্ঞাত তরুণী উদ্ধার ঘটনায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় গত কয়েক দিন ধরে ঘোরাঘুরি করা এক তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে থানা পুলিশ। বর্তমানে ওই তরুণী মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। তার চেহারা ও পরনের পোশাক দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। গত ২-৩ দিন ধরে তিনি মুরাদনগর উপজেলার আল্লাহ চত্বর সংলগ্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন।
শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় মুরাদনগর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। পুলিশের ধারণা, তরুণীটি কিছুটা মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী বা অসংলগ্ন আচরণ করছেন।
জানা যায়, মুরাদনগরে অজ্ঞাত তরুণী উদ্ধার হওয়ার পর তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি নিজের নাম বলতে পারলেও ঠিকানা বা পরিবারের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। তার কথাবার্তাও অনেকটা অসংলগ্ন ছিল।
তরুণীটি জানায়, তিনি ফরদাবাদ এলাকা থেকে এসেছেন এবং সেখানে তার খালার বাড়ি রয়েছে। তবে বিস্তারিত ঠিকানা বা পরিবারের অন্য কোনো তথ্য তিনি স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি। ফলে তার প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ওই তরুণীকে মুরাদনগর বাজারের আল্লাহ চত্বর এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। অনেকেই তার পরিচয় জানতে চাইলেও তিনি নাম ছাড়া অন্য কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মুরাদনগর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, “অজ্ঞাত ওই তরুণীকে আমরা স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তিনি কিছুটা মানসিকভাবে অসংলগ্ন অবস্থায় রয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, তরুণীটি তার গ্রামের নাম অস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তিনি চান্দিনা উপজেলার ইটখোলা গ্রামের হতে পারেন। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে এবং তার পরিবারের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুরাদনগরে অজ্ঞাত তরুণী উদ্ধার এর ঘটনায় যদি কেউ ওই তরুণীর সঠিক পরিচয় সম্পর্কে তথ্য জানেন, তাহলে মুরাদনগর থানা অথবা মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
এদিকে, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তরুণীটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই তরুণীর পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে এবং তিনি নিরাপদে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবেন। একই সঙ্গে তারা এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মুরাদনগরে অজ্ঞাত তরুণী উদ্ধার এর ঘটনায় সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে, যাতে দ্রুত তার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা যায়।

ফাহিমা বেগম প্রিয়া