প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

রাজশাহীতে তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে নারীদের ভূমিকা নিয়ে সম্মেলন

IMG 20260502 WA0007
মো. মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী

রাজশাহীতে নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে নারীদের ভূমিকা’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে। শনিবার (২ মে ২০২৬) বিকেল ৪টায় রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া এলাকার তালাইমারী রোডস্থ ভদ্রা এলাকায় এ সম্মেলনের আয়োজন করে হেযবুত তওহীদ রাজশাহী জেলা শাখা।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের রাজশাহী জেলা নারী বিভাগের সম্পাদক মোসা. রোজিনা খাতুন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের খুলনা নারী বিভাগের সম্পাদক জেরিন সাইয়ারা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী নারী বিভাগের সম্পাদক মোসা. নাঈমা খাতুন।

আয়োজকরা জানান, রাজশাহীতে নারী সম্মেলন আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তাদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া একটি আধুনিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয় বলে বক্তারা মত দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেরিন সাইয়ারা বলেন, একটি তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামের ইতিহাসে নারীরা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং সেই আদর্শ বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার ও নিরাপত্তা সংকটের অন্যতম ভুক্তভোগী হচ্ছে নারীরা। উগ্রবাদ ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে নারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তওহীদের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোসা. নাঈমা খাতুন বলেন, একটি আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রতিটি নাগরিকের জান-মাল ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকতে হবে। তিনি বলেন, রাজশাহীতে নারী সম্মেলন এর মাধ্যমে নারীদের মাঝে নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নারীরা যদি শিক্ষিত ও সচেতন হয়, তাহলে তারা পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গঠনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারীদেরকে ঘরের বাইরে এসে সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা সময়ের দাবি।

এ সময় উপস্থিত বক্তারা তওহীদভিত্তিক আদর্শের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে একটি সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সম্মেলনে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নারী কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের আয়োজনকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান জানান।

সবশেষে, রাজশাহীতে নারী সম্মেলন এর মাধ্যমে নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

অনলাইন জরিপ———————–

‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পর চাঁদাবাজি ও দখল অনেকাংশে কমেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

প্রিন্ট করুন