প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

সিফাত বিশ্ব রেকর্ড: ১০.৩২ সেকেন্ডে ১০ মাস্ক পরে গিনেসে নাম

IMG 20260503 WA0007
রেহমান শাহিন, পিরোজপুর

সিফাত বিশ্ব রেকর্ড গড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তরুণ সিফাত আকন। চোখ বাঁধা অবস্থায় মাত্র ১০.৩২ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন সিফাত। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৮ এপ্রিল গিনেস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই অর্জনকে স্বীকৃতি দেয়।

সিফাত বিশ্ব রেকর্ড অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ দিনের প্রস্তুতি ও পরিশ্রম। প্রায় চার বছর আগে একটি সংবাদে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। সেখান থেকেই তার মধ্যে রেকর্ড গড়ার আগ্রহ তৈরি হয়।

করোনাকালে মাস্কের ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি মাস্ক নিয়েই কিছু করার পরিকল্পনা করেন। লক্ষ্য ছিল—একটি বিদ্যমান রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়া। এর আগে একজন ভারতীয় প্রতিযোগী ১১.৫৪ সেকেন্ডে ১০টি মাস্ক পরে রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যেই অনুশীলন শুরু করেন সিফাত।
শুরুর দিকে কাজটি সহজ ছিল না। চোখ বাঁধা অবস্থায় দ্রুত মাস্ক হাতে নেওয়া এবং সঠিকভাবে তা পরা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমদিকে ২৫ থেকে ২৬ সেকেন্ড সময় লাগলেও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সময় কমিয়ে আনেন তিনি।

এই সময় পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। বিশেষ করে তার মা, ছোট ভাই এবং বন্ধুদের উৎসাহ তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

১৮ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য আবেদন করেন তিনি। প্রায় তিন মাস পর ২৮ এপ্রিল রাতে ই-মেইলের মাধ্যমে আসে কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি।

এই অর্জনে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হন তার পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে তার মা ছেলের এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন।

সিফাত বিশ্ব রেকর্ড অর্জনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

বর্তমানে তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ভবিষ্যতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করছেন। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না তিনি। সামনে আরও নতুন রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।
এক মিনিটে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে আলিঙ্গন করা এবং সর্বাধিক ‘হ্যান্ডশেক’ করার মতো নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েও ভাবছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, সিফাত বিশ্ব রেকর্ড শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি দেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

প্রিন্ট করুন