প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

আমতলী চা বাগান নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, সাবেক ব্যবস্থাপককে ঘিরে বিতর্ক

IMG 20260505 WA0003
নাজমুল ইসলাম হৃদয়, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

আমতলী চা বাগানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে বাগানটির সাবেক ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এদিকে, আমতলী চা বাগান সংশ্লিষ্ট একটি ২০১৪ সালের লিখিত অঙ্গীকারনামা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট আমতলী চা বাগানের তৎকালীন ব্যবস্থাপক কাজী মাসুদুর রহমান শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের কাছে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। সেখানে তিনি শ্রমিক ও স্টাফদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ না করা, মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মানসিক চাপ প্রয়োগ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তার দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করে। পরবর্তীতে তাকে ম্যানেজার পদ থেকে সরিয়ে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

হাইলাইটস:
🔷 আমতলী চা বাগান নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ
🔷 সাবেক ব্যবস্থাপককে ঘিরে নতুন বিতর্ক
🔷 ২০১৪ সালের অঙ্গীকারনামা আবার আলোচনায়
🔷 সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর দাবি
🔷 তদন্তের দাবি বর্তমান কর্তৃপক্ষের

সূত্র মতে, এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি ২০২০ সালে চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। আমতলী চা বাগান সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, আচরণগত সমস্যার কারণে কর্মজীবনে একাধিকবার বিতর্কে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া, আমতলী চা বাগান কোম্পানির সঙ্গে দেনাপাওনা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্টরা আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বাগান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চলমান বিরোধের জেরে একটি মহলের সহায়তায় তিনি আমতলী চা বাগানের বর্তমান ব্যবস্থাপক সোহেল রানা পাঠান ও কোম্পানির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। এতে বাগানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আমতলী চা বাগানের হেড ফ্যাক্টরি ক্লার্ক এম. কায়ছার বলেন, “বর্তমান ব্যবস্থাপক উৎপাদন ও শ্রমিক কল্যাণে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যগুলো ভিত্তিহীন।”

বর্তমান ব্যবস্থাপক সোহেল রানা পাঠান বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাগানের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছি। একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, আমতলী চা বাগানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।

তবে এ বিষয়ে কাজী মাসুদুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মন্তব্যের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আমতলী চা বাগান নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন।

প্রিন্ট করুন