প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবক, পথে অ্যাম্বুলেন্সে আবারও গুলি

2ee833f07418c935120489513da79da4 69fa10fa27d6b
আজকের কথা ডেস্ক

খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে আবারও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত রাজু হাওলাদার (৩৮) লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং অন্তত চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার নগরীর লবণচরা থানার কোবা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় পেটে গুলিবিদ্ধ হন রাজু। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তিনি কীভাবে বা কখন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সটি রূপসার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সেটিকে লক্ষ্য করে আবারও গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, রাজু কখন ও কোথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। রাতে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাওয়া যায় এবং তার পেটে গুলির চিহ্ন ছিল। ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। অ্যাম্বুলেন্সে গুলির বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন বলে জানান।

এদিকে কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহম্মেদ বলেন, ঢাকায় নেওয়ার পথে কুদির বটতলা এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে তারা জেনেছেন। পরে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সহায়তা চাইলে তাদের পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে থানা এলাকা পার করে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। গুলি অ্যাম্বুলেন্সে লেগেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট থানা আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ গুলির শব্দে অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। তবে অন্ধকার ও ভীতিকর পরিবেশের কারণে কেউই স্পষ্টভাবে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেননি। এলাকাবাসীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য সকল দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে, পূর্বের শত্রুতা, অপরাধ জগতের সম্পৃক্ততা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না—সেসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

এদিকে নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়, যাতে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি এলাকা ত্যাগ করতে না পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ জন্য গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে চিকিৎসকদের মতে, গুলিবিদ্ধ রাজু হাওলাদারের অবস্থা শুরুতে আশঙ্কাজনক ছিল। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়ার সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, পূর্ব শত্রুতা বা অপরাধ জগতের দ্বন্দ্বের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি, তবুও বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি যেকোনো তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হবে।

প্রিন্ট করুন