প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

সাপের কামড়ে মুরাদনগরে নারীর মৃত্যুঝুঁকি, ১৪ হাজার টাকার এন্টিভেনম ফ্রি দিল হাসপাতাল

কেনো শূকরের মাংস হারাম 20260509 140811 0000
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সাপের কামড় নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে কুমিল্লার মুরাদনগরে। বিষধর সাপের ছোবলে আক্রান্ত ৪০ বছর বয়সী এক নারীকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপে প্রাণে বাঁচেন তিনি। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোয় তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হয় জরুরি চিকিৎসা।

সাপের কামড় আক্রান্ত ওই নারীকে শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুরাদনগরে নিয়ে আসেন স্বজনরা। কোন সাপ তাকে দংশন করেছে তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর শারীরিক অবস্থা, উপসর্গ এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে এটি বিষধর সাপের আঘাত।

সাপের কামড় রোগীকে দ্রুত পলিভেলেন্ট এন্টিভেনম দেওয়া হয়, যা বিষধর সাপের দংশনের একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসকরা তাকে মোট ১০ ভায়াল এন্টিভেনম প্রয়োগ করেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া এই ওষুধের বাজারমূল্য প্রায় ১৪ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।

সাপের কামড় বিষয়ে হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্ত নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসায় চিকিৎসা কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়েছে। দেরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারতো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সাপের কামড় নিয়ে গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেক মানুষ ওঝা-কবিরাজের কাছে ঝুঁকে পড়েন। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং রোগীর মৃত্যুঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, সাপে কাটার পর কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে।

সাপের কামড় প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অধিকাংশ রোগীকেই বাঁচানো সম্ভব।

সাপের কামড় আক্রান্ত নারীর চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম ভূইঁয়া।

প্রিন্ট করুন