প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

ডিবি পরিচয়ে জিরা লুট, ৫২০ কেজি মালামাল উদ্ধারসহ আটক ৩

কেনো শূকরের মাংস হারাম 20260509 172616 0000
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার

জিরা লুট করে পালানোর সময় কুমিল্লার দেবীদ্বারে ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারী সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ৫২০ কেজি জিরার সম্পূর্ণ চালান উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ তিন ডাকাতকে আটক করে। আটকরা হলেন দেবীদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে মো. নাজমুল হাসান (২৮), রুহুল আমীনের ছেলে মো. মাসুক ওরফে মনা (২৬) এবং খলিলপুর গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের ছেলে মো. জুয়েল (৩০)।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৮ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার পৌর এলাকার পানুয়ারপুল বাসস্ট্যান্ডে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট থেকে নোয়াখালীগামী “লাল সবুজ” পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সেখানে পৌঁছালে ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বাসটির গতিরোধ করে।

সাদা পোশাকে থাকা চক্রের সদস্যরা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয়। তারা ভুয়া আইডি কার্ড দেখিয়ে বাসে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশির নামে যাত্রীদের আতঙ্কিত করে। পরে বাসে থাকা ৩০ কেজি ওজনের ১৪টি জিরার বস্তা জব্দের কথা বলে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিলে বাসের স্টাফ ও কয়েকজন যাত্রীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।

লুট হওয়া মালামালের মালিক নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার মুছাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুল হাসান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরে আটক তিনজনের দেওয়া তথ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভোলাচং বাজারে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ বস্তা জিরা।

ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের জিরার চালান ডাকাতি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আটক তিনজনসহ অজ্ঞাত ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিলেট আম্বরখানা এলাকার “সিলেট বাজার” এর মালিক মো. জাকির হোসেন বলেন, পরিবহনের মাধ্যমে পাঠানো ১৪ বস্তা জিরার মোট ওজন ছিল ৫২০ কেজি। পুরো চালান উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. ঈমাম হোসেন জানান, আটক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে ডাকাতদের গ্রেফতার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

জিরা লুট ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেবীদ্বার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. শাহীন।

প্রিন্ট করুন