প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

দেবীদ্বারে ২ অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানা ১০ লাখ টাকা

IMG 20260513 WA0005
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অভিযান চালিয়ে দুটি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে দুই ইটভাটার মালিকের কাছ থেকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অভিযানের সময় হাইকোর্টের নথি দেখিয়েও ইটভাটা রক্ষা করতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এক মালিক।

বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার পৌর এলাকার পানুয়ারপুল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন “এমবিসি ব্রিক্সফিল্ড”-এ প্রথম অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে দুপুর সোয়া ১টায় দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত “একতা ব্রিক্স ফিল্ড”-এ অভিযান চালিয়ে সেটিও ভেঙে ফেলা হয়।

          হাইলাইটস

● দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২টি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

● “এমবিসি ব্রিক্সফিল্ড” ও “একতা ব্রিক্স ফিল্ড”কে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

● হাইকোর্টের কাগজ দেখিয়েও ইটভাটা রক্ষা করতে পারেননি মালিক সবুর ভূঁইয়া।

● ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইটভাটা মালিক।

● প্রশাসনের ঘোষণা— দেবীদ্বারের বাকি অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে অভিযান চলবে।

জানা যায়, “এমবিসি ব্রিক্সফিল্ড”-এর মালিক মো. সবুর ভূঁইয়া এবং “একতা ব্রিক্স ফিল্ড”-এর মালিক ৩নং রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সরকারের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উভয় ইটভাটাকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় দেবীদ্বার থানা পুলিশ, র‍্যাব-১১, ফায়ার সার্ভিস এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানের সময় “এমবিসি ব্রিক্সফিল্ড”-এর মালিক সবুর ভূঁইয়া সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য হাইকোর্টে মামলা করেছেন এবং মামলাটি চলমান রয়েছে। প্রায় ৪৫ বছর ধরে তিনি এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দাবি করে বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাবে আমাকে পথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

অন্যদিকে “একতা ব্রিক্স ফিল্ড”-এর পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, তারা সম্প্রতি ইটভাটাটি কিনেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যেই ভাটা ভেঙে ফেলায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তবে অভিযোগ নাকচ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাস বলেন, “কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তি বিবেচনায় নয়, আইন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।” তিনি জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ১৫(১) ধারায় দুইটি ইটভাটার চিমনি ও কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়েছে।

দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, উপজেলার ২৪টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টির কোনো বৈধতা বা পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। ইতোমধ্যে ৭টি অবৈধ ইটভাটা ধ্বংস করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বাকি অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট করুন