কুমিল্লার দেবীদ্বারে পিতা হত্যার ঘটনায় বাবাকে লাঠিপেটার অভিযোগে অভিযুক্ত ছেলে রাসেল আহমেদ (৩০) নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে আত্মসমর্পণ করেছেন। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করলে দেবীদ্বার থানা পুলিশ তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, আত্মসমর্পণের সময় রাসেল স্বীকার করেন, তার মারধরের আঘাতে বাবার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরে ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেবীদ্বার থানা পুলিশকে জানায়। এরপর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত ছেলে প্রাথমিকভাবে বাবাকে মারধরের কথা স্বীকার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর কুশাগাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল আলীম ওরফে ছেনুমিয়া (৭০) ওই এলাকার মৃত আকামত আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি একটি মোবাইল টাওয়ারে নৈশপ্রহরীর চাকরি করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকাসক্ত ছেলে রাসেল প্রায়ই বাবার কাছে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। সম্প্রতি বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শনিবার সকালে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রি ও সেই টাকার ভাগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে রাসেল বাবাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে ছেনুমিয়া দা নিয়ে ছেলেকে ধাওয়া করলে রাসেলের হাতে কোপ লাগে। পরে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বাবাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রথমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
উপপরিদর্শক অপু বড়ুয়া বলেন, লাশ উদ্ধার করতে গেলে কিছু স্বজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত রাসেল দাবি করেছেন— পারিবারিক বিরোধ ও ক্ষোভের জেরে তিনি কয়েকটি আঘাত করেছিলেন, তবে মৃত্যু অসুস্থতার কারণেও হতে পারে বলে তার বক্তব্য।
দেবীদ্বারে পিতা হত্যা ঘটনায় শনিবার রাত পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার