প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

কোটালীপাড়ায় শিক্ষকের স্থায়ী বদলীর দাবিতে মানববন্ধন, শিক্ষার্থী সরিয়ে নেওয়ার আল্টিমেটাম

IMG 20260517 WA0009
কামরুল হাসান, কোটালীপাড়া থেকে :

কোটালীপাড়ায় শিক্ষকের স্থায়ী বদলী দাবিতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ৬ নং ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা। সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার স্থায়ী বদলী ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।

রবিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে শতাধিক অভিভাবক অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা জানান, তিন দিনের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বদলী না হলে বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।

অভিভাবক শাহানাজ বেগম বলেন, “আমার দুই সন্তান এই বিদ্যালয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও তার স্থায়ী বদলী না হওয়ায় আমরা আবার রাস্তায় নেমেছি।”

আরেক অভিভাবক বোরহান খান অভিযোগ করে বলেন, “তার বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বরং আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। তার কারণে ভালো শিক্ষকরা এখানে টিকতে পারেন না। দ্রুত স্থায়ী বদলী না হলে আমরা সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে রাখবো না।”

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি হোসেন মোল্লা বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বড় অংশই তাকে আর এখানে দেখতে চায় না। অথচ তিনি বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে এখানে থাকার চেষ্টা করছেন। এর আগেও সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।”

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্লাস ফাঁকি, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে তাকে সাময়িকভাবে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তার বিরুদ্ধে লঘুদণ্ড ও স্থায়ী বদলীর সুপারিশ করেন।

তবে পরে ওই ডেপুটেশন বাতিলের দাবিতে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তপতী বাড়ৈ। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ে অভিভাবকদের মধ্যে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, “বিভাগীয় মামলার প্রেক্ষিতে স্থায়ী বদলীর জন্য জেলা অফিসে তিনটি শূন্য বিদ্যালয়ের তালিকা অনেক আগেই পাঠানো হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত জেলা অফিসের।”

কোটালীপাড়ায় শিক্ষকের স্থায়ী বদলী নিয়ে চলমান এ আন্দোলন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রিন্ট করুন