প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

পঞ্চগড়ে ৬০ একর জমিতে ফলহীন মিষ্টি কুমড়া, কোটি টাকার ক্ষতির মুখে কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ

IMG 20260517 WA0015
সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকে :

পঞ্চগড়ে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষি উদ্যোক্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। ব্যাংক ঋণ, ধারদেনা ও বাকিতে সার-কীটনাশক কিনে ৬০ একর জমিতে হাইব্রিড ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করলেও শেষ পর্যন্ত একটিও ফল না আসায় এখন তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রায় ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও ফলন না হওয়ায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।

জানা গেছে, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সর্দারপাড়া ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের নলেহা এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি একরপ্রতি ৬০ হাজার টাকায় চুক্তিতে নেন। প্রথমে আলু চাষ করে লোকসানের মুখে পড়ার পর তিনি ওই জমিতে হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষের সিদ্ধান্ত নেন।

কৃষক সাজ্জাদের অভিযোগ, বোদা বাজারের সার-বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেলের পরামর্শে আলমগীর সীড কোম্পানির ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ মেট্রিক টন ফলনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। সেই আশায় নিয়মিত সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ সব ধরনের পরিচর্যা করলেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও গাছে কোনো ফল আসেনি।

তিনি জানান, বর্তমানে জমিতে গাছ ও ফুলে ভরে গেলেও ফলের দেখা নেই। সব মিলিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন হলে বর্তমান বাজারদরে প্রায় দেড় কোটি টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রির আশা করেছিলেন তিনি।

স্থানীয় জমির মালিক কাব্য ভূষণ বর্মন বলেন, “আমরা কয়েকজন মিলে সাজ্জাদ ভাইকে জমি দিয়েছি। আলুতে লোকসানের পর তিনি মিষ্টি কুমড়া লাগিয়েছিলেন। গাছ অনেক ভালো হলেও কোনো ফল হয়নি। পাশের জমিতে অন্যদের কুমড়ায় ভরে গেছে। বিষয়টি দেখে মনে হচ্ছে বীজেই সমস্যা ছিল।”

সার-বীজ ব্যবসায়ী আরিফুল রহমান রাসেল বলেন, “কোম্পানির কথামতোই আমি বীজ এনে দিয়েছিলাম। তারা বলেছিল ফলন খুব ভালো হবে। কিন্তু বাস্তবে একটিও কুমড়া হয়নি। এখন কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণের কথা বললেও তারা নানা অজুহাত দিচ্ছে।”

কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি এখন পথে বসেছি। ঋণ, ধারদেনা আর বাকিতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ করেছি। জমির মালিকদের টাকাও পুরো দিতে পারিনি। কোম্পানি আমাকে ক্ষতিপূরণ না দিলে আইনের আশ্রয় নেব।”

এদিকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করেছেন।

জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শামীম বলেন, “আমরা সরেজমিনে গিয়ে কৃষকের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। গাছে প্রচুর ফুল ও লতা থাকলেও ফল হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পঞ্চগড়ে মিষ্টি কুমড়া চাষ নিয়ে এমন বিপর্যয়ে এখন উদ্বিগ্ন স্থানীয় কৃষকরাও। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদের দাবি, দায়ী প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় এনে দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক।

প্রিন্ট করুন