
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৭ মে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina। জাতির পিতা Sheikh Mujibur Rahman–কে সপরিবারে হত্যার পর দেশের সংকটময় সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করে তিনি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেন।
দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসেছে নানা পরিবর্তন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সামরিক শাসন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্যুতির সময়েই শেখ হাসিনার দেশে ফেরা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন গতি এনে দেয়। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি দলকে সংগঠিত করেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার এবং বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে। Padma Bridge, Bangabandhu Satellite-1, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্পগুলো দেশের উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক অবস্থান, সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা বিশ্বপরিসরে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
বিভিন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, হামলা-মামলা ও জীবনের ঝুঁকি মোকাবিলা করেও শেখ হাসিনা রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
১৭ মে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরার দিন নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিকচিহ্ন তৈরির দিন হিসেবেও বিবেচিত। সমর্থকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নতুন শক্তি জুগিয়েছিল।

