
পিরোজপুরে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে মনিটরিং বিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ। সভায় বক্তারা শিক্ষার্থীদের মাঝে সরবরাহকৃত খাবারের গুণগত মান বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে খাবার পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মামুনুর রশীদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা সহ্য করা হবে না। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত খাবার বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হবে।”
তিনি আরও জানান, বেকারির মান ও খাদ্য সংরক্ষণাগার নিয়মিত পরিদর্শনের জন্য স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং একটি বিশেষ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করবে।
সভায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ত্রুটিমুক্ত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ওয়াশ ব্লকে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা।
এ ছাড়া প্রতিদিন খাবার বিতরণ শেষে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষর ও ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদনসহ দৈনিক প্রতিবেদন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও সমস্যা চিহ্নিত করতে প্রতি মাসে অন্তত একবার বাধ্যতামূলক মনিটরিং ও ফিডব্যাক সভা আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, শিশুদের পুষ্টিমান উন্নয়নে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এই কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
পিরোজপুরে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতে কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়।

