প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে তসলিমা নাসরিনের মন্তব্য

image 297282 1730035393
আজকের কথা ডেস্ক

তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার অধিকারের পক্ষে মত দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন বলেন, শেখ হাসিনা কখনও তার দেশে ফেরার অধিকারের পক্ষে না থাকলেও তিনি বিশ্বাস করেন, “একজন নাগরিকের নিজের দেশে নিরাপদে বসবাস করার অধিকার রয়েছে।” তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নিরাপদে দেশে ফিরে রাজনীতি করুন—এটাই গণতান্ত্রিক নীতি।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বাইরে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরও নিরাপদে দেশে ফেরার এবং নির্ভয়ে বসবাসের অধিকার রয়েছে। তার ভাষায়, রাজনৈতিক মতভেদ বা ক্ষমতার পরিবর্তন কখনও নাগরিকের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে না।

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে তসলিমা নাসরিন বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা বা দমননীতি চালানো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। জনগণই নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে কোন দল ক্ষমতায় থাকবে এবং কোন দল প্রত্যাখ্যাত হবে।

তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ জয়ী হলে জনগণের রায় অনুযায়ী দেশ পরিচালনার অধিকার তাদের থাকবে। “গণতন্ত্রের অর্থই হলো জনগণের সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া,” মন্তব্য করেন তিনি।

তবে একই স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন স্পষ্টভাবে জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে “জয় বাংলা”, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার আদর্শের সমর্থক হলেও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে নন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্ধারিত হওয়া উচিত যোগ্যতা, সততা, নীতি ও জনআস্থার ভিত্তিতে; পারিবারিক উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে নয়।

শেখ হাসিনার রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর ফলে বাংলাদেশ প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতার পথ থেকে সরে গেছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে ধর্মীয় আপস ও উগ্রতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের জন্য “সৎ, সাহসী ও সত্যিকারের সেক্যুলার রাজনৈতিক নেতৃত্ব”-এর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি এমন নেতৃত্ব চান, যারা রাষ্ট্র, সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধর্মকে আলাদা রেখে আধুনিক মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলবে এবং বাকস্বাধীনতা, নারী অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

প্রিন্ট করুন