বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে দেশে তৈরি হয়েছে জাল দলিল! নিজের স্বাক্ষর জালিয়াতির বিরুদ্ধে এবার আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন দৈনিক দেশ সারাদিন ও দেশইনফো.কম.বিডি-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোছাঃ সাজেদা হক। সিআর মামলা নং-১৮০৬/২৫ এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আরও ৪ সন্দেহভাজনের স্বাক্ষরের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির অতিরিক্ত এসপি মোহাম্মদ সিরাজুল মাসুদের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন এই নারী সাংবাদিক।
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, মোস্তফা কামালের তদন্তাধীন এই সিআর মামলাটি মূলত একটি জালিয়াতি করে তৈরি করা জাল দলিল নিয়ে। মামলার বাদী সাজেদা হক জানান, যে তারিখে বিতর্কিত দলিলটি তৈরি বা সৃজন করা হয়েছে, ওই সময়ে তিনি নিজে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। ফলে তার অনুপস্থিতিতে দলিলটিতে জাল স্বাক্ষর করা হয়েছে।
আগামী ১ জুন এই মামলায় ফরেনসিক টেস্টের জন্য তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। উক্ত তারিখে মামলার বাদী, বিবাদী এবং একজন সন্দেহভাজনের স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তবে মামলার বাদী সাজেদা হক মনে করছেন, এই জালিয়াতি চক্রের পেছনে আরও গভীর রহস্য রয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি মূল আসামির ৪ সহযোগীর স্বাক্ষরেরও ফরেনসিক পরীক্ষা করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো ওই ৪ সন্দেহভাজন হলেন— মঞ্জুরুল হাসান, সুমন, রেদওয়ান এবং রাসেল।
আবেদনে এই সম্পাদক উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ৪ জনই মূল আসামি খন্দকার মিরাজুল ইসলামের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহকর্মী। বাদী যখন আসামির অফিসে যাতায়াত করতেন, তখন এই ৪ জন নিয়মিত মিরাজুলের অফিসে কর্মরত ছিলেন। ফলে মিরাজুলের নির্দেশে তাদের কেউ এই জাল স্বাক্ষর দিয়ে থাকতে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া খন্দকার মিরাজুলের অন্যান্য মামলাতেও এদেরকে কৌশলগত সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
সিআইডির ঐতিহ্যগত ন্যায়পরায়ণতা ও দক্ষতার ওপর আস্থা রেখে দেশের অন্যতম এই নারী গণমাধ্যমকর্মী আশা প্রকাশ করেন, সিআইডি এই ৪ জনের স্বাক্ষরের ফরেনসিক পরীক্ষার আবেদনটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং জাল দলিল জালিয়াতির মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করে সঠিক বিচার নিশ্চিত করবে।

আজকের কথা ডেস্ক