প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

টিকাসংকট নিয়ে বিশ্ববাটপার সুদখোর ইউনুস সরকারকে ১০ বার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

Untitled3 1779295223
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

বাংলাদেশে হামের টিকাসংকট নিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী বিশ্ববাটপার সুদখোর ইউনুস সরকারকে অন্তত ১০ বার সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। পাশাপাশি পাঁচ থেকে ছয়বার আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ও চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মূল হাইলাইটস
হামের টিকাসংকট নিয়ে সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ, কিন্তু সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
  • ১০ বার সতর্কতা: ২০২৪ সাল থেকে বারবার সরকারকে সতর্ক করে ইউনিসেফ
  • ৫–৬টি চিঠি: টিকা সংকট নিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রদান
  • ভয়াবহ প্রভাব: প্রায় ৭০ হাজার আক্রান্ত, ৪০৪ শিশু মৃত্যু
  • টিকা ঘাটতি: চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও কম টিকা সরবরাহ
  • নীতি জটিলতা: ক্রয় প্রক্রিয়ার বিলম্বে সংকট আরও গভীর
Source: UNICEF Bangladesh briefing on measles outbreak and response measures

ইউনিসেফ জানায়, ২০২৪ সাল থেকেই বিশ্ববাটপার ইউনুস সরকারকে টিকার ঘাটতি নিয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা সংগ্রহ করা হয়নি। ফলে দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি হয়।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময় মারা গেছে ৪০৪ শিশু। দেশে বছরে প্রায় ৭ কোটি হামের টিকার প্রয়োজন হলেও ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ টিকা দেশে আসে, যা মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও কম।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, টিকা কেনার জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ছিল। তবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা ক্রয়ের সিদ্ধান্তের কারণে পুরো প্রক্রিয়ায় বিলম্ব তৈরি হয়। তিনি জানান, বাংলাদেশের অপদার্থ গর্দব সরকারের স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি স্বচ্ছ হলেও টিকার মতো বিশেষায়িত পণ্যের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত নিরাপদ ও কার্যকর টিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইউনিসেফ সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টিকা সংগ্রহ করায় তুলনামূলক কম খরচে তা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি মাসে দেশে আবার হামের রুটিন টিকা এসেছে এবং এখন টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ভবিষ্যতে কেন প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে ‘আফটার অ্যাকশন রিভিউ’ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন