প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মুরাদনগরে ১০ মাস বেতন না পেয়ে ঈদে কষ্টে কর্মচারীরা

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনিয়ম
আজিজুর রহমান রনি, বিশেষ প্রতিবেদক :

ঈদের আনন্দের মাঝে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের জীবনে। দীর্ঘ ১০ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন নিরাপত্তা প্রহরীসহ একাধিক কর্মচারী।

কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, চাকরি দেওয়ার সময় হাসপাতালের স্টোরকিপার মো. আবদুল কাদের তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত উপহার হিসেবে হাঁস দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এখন তারা সেই টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ঈদে সন্তানদের জন্য সামান্য খাবার কেনাও সম্ভব হচ্ছে না বলে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্টোরকিপার মো. আবদুল কাদের।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেবায় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে এক্স-রে সেবা প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট খাতে লক্ষাধিক টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চারটি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে তিনটি অচল এবং একটি সচল থাকলেও জনবল সংকটে সেটিও ব্যবহার হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেবা বন্ধ থাকলেও বাজেট বরাদ্দ চলমান থাকায় পুরো ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া ওষুধ ক্রয় ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে তদন্ত সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং পূর্বের অনিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। পূর্ববর্তী কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

ঈদের সময় এমন পরিস্থিতিতে বেতন ও সেবার অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

প্রিন্ট করুন