ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঈদের নামাজ ও কোরবানির মাংস ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্বপাড়া জামে মসজিদে ঈদের নামাজ শেষে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কামরুল মোল্লা ও আবুবক্কার মুন্সি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঈদের নামাজের সময় সেই বিরোধ নতুন করে উত্তেজনায় রূপ নেয়। পরে কোরবানির মাংস বণ্টন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. জাকির হোসেন (৪২), আমির হোসেন (৪০), জামাল মোল্লা (৪৩), মান্নান মোল্লা (৫৫), রুবেল মিয়া (৩০), ইলিয়াস শেখ (৩০), সুজন মিয়া (২৮), আসাদ মোল্লা (৩৫), সম্রাট মোল্লা (৪০), হেনা বেগম (৫০), জাহিদ শেখ (৪৫), জালাল মোল্লা (৪০), তুহিন মিয়া (৩২), বাহার মিয়া (১৯), কুয়েত শেখ (৪৬), রাজু শেখ (২৫), রুবেল শেখ (৩৪), হাফিজুল (৪০), আলামিন (৩০), মুন্নু মাতুব্বর (৫০), সিরাজুল মাতুব্বর (৩৫), বাইজিত মাতুব্বর (৪৬), রেজাউল (৩২), ফারুক মাতুব্বর (৩৫), পান্নু মাতুব্বর (৪২), সোহাগ মাতুব্বর (৮০), সেন্টু মাতুব্বর (৪৫), চেহারুন বেগম (৬৫)-সহ আরও অনেকে।
এ বিষয়ে কামরুল মোল্লা ও আবুবক্কার মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের কথা ডেস্ক