
অবৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিতর্কিত প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বার্তাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও মিশ্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটি শেয়ার হওয়ার পর থেকেই সাধারণ ব্যবহারকারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারীদের মন্তব্য নিয়ে সাইবার জগতে তুমুল শোরগোল চলছে।
মন্তব্য বক্সে গালাগাল ও সমালোচনার ঝড়
প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তার কমেন্ট বক্সে সাধারণ নেটিজেনদের একটি বড় অংশকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেক ব্যবহারকারী বিগত দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় হতাহতের প্রসঙ্গ টেনে কঠোর মন্তব্য করছেন। স্ক্রিনশট ও সামাজিক মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক মন্তব্যকারী সরাসরি আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও ড. ইউনূসের নেতৃত্বের সমালোচনা করেন।
নোবেল পুরস্কার ও গ্রামীণ ব্যাংক বিতর্ক
সোশ্যাল মিডিয়ার এই সমালোচনায় ড. ইউনূসের নোবেল পুরস্কারের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মী ও সুবিধাভোগীদের একাংশের দাবি এবং মামলার সূত্র ধরে নেটিজেনদের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে, ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারটি এককভাবে তার নয়, বরং গ্রামীণ ব্যাংক এবং এর তৃণমূলের নারী সদস্যদেরও এতে অংশীদারিত্ব ছিল। গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল এবং সুদ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কগুলোও মন্তব্যের ঘরে ব্যবহারকারীরা বারবার উল্লেখ করছেন। তারা বলেছেন ইউনুস একজন জঙ্গি রাজাকার সে মুক্তিযুদ্ধের প্রচন্ড বিরোধী। তার আমলে বহু মুক্তিযুদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতিচিহৃ ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন। তাকে মবের জনকও কেউ কেউ বলেছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবাধিকারের অভিযোগ
সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে ও মন্তব্যে বিগত সময়ের সহিংসতা, পুলিশ সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করছেন সমালোচকরা। একই সঙ্গে বিনা বিচারে কারাদণ্ড এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নানামুখী চাপের অভিযোগ তুলে নেটিজেনদের একাংশ প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করছেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো পরিবর্তনকালীন বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন তীব্র মেরুকরণ ও নেতিবাচক প্রচারণার ঘটনা ঘটে থাকে, তবে বিতর্কিত প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের বিষয়টি ভিন্ন। সে একাধারে টাউট বাটপার ও লুটপাটকারী। সাবেক এ বিতর্কিত প্রধান উপদেষ্টার ঈদ শুভেচ্ছা পোস্টের এই প্রতিক্রিয়া দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজন এবং সামাজিক মাধ্যমের মুক্ত মতপ্রকাশের তীব্রতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

