প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

গলায় মাংস আটকে চুয়াডাঙ্গা-জামালপুরে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

গলায় মাংস আটকে মৃত্যু
আজকের কথা ডেস্ক

ঈদের খাবারেই ঝরল দুই শিশুর প্রাণ, গলায় মাংস আটকে চুয়াডাঙ্গা-জামালপুরে মর্মান্তিক মৃত্যু

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা ও জামালপুরে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসাথে খাবার খেতে বসে গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী। পৃথক দুই ঘটনায় মারা যাওয়া শিশুদের একজন মাদ্রাসাছাত্রী এবং অপরজন স্কুলশিক্ষার্থী। ঈদের উৎসবের মধ্যেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় দুই জেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায়। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে খাবার খাওয়ার সময় গলায় মাংস আটকে মারা যায় আখিতারা খাতুন ওরফে আঁখি (১১) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রী।

নিহত আঁখি স্থানীয় ডিএস দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে লোকনাথপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ হকের মেয়ে। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তান হওয়ায় তার মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে আঁখির গলায় মাংসের টুকরো আটকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সে শ্বাস নিতে না পেরে ছটফট করতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার সময় শিশুটি আর জীবিত ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আঁখি অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছাত্রী ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। ঈদের দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

এক প্রতিবেশী বলেন, “সকালেও মেয়েটাকে হাসিখুশি দেখেছি। দুপুরের মধ্যেই এমন খবর শুনতে হবে ভাবতেই পারিনি। পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে।”

অন্যদিকে একই দিনে প্রায় একই ধরনের আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেতে বসে গলায় মাংস আটকে মারা যায় মো. ইয়াসিন (১৪) নামে এক কিশোর।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার পোড়ারচর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াসিন ওই এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় বটচর নিম্নমাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদের দুপুরে সবাই একসঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। খাওয়ার একপর্যায়ে হঠাৎ ইয়াসিনের গলায় মাংস আটকে যায়। এতে সে শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে শুরু করে। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ইয়াসিনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধ হওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে শিশুদের খাবার খাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে। বড় মাংসের টুকরো বা শক্ত খাবার শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার বিষয়েও সচেতনতা জরুরি।

দুই জেলায় একই দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ঈদের আনন্দের সময় অসাবধানতাবশত এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। শিশুদের খাবার পরিবেশন ও খাওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

এদিকে দুই পরিবারের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ঈদের আনন্দের দিনে দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—এক মুহূর্তের অসাবধানতাই কেড়ে নিতে পারে একটি তাজা প্রাণ।

প্রিন্ট করুন