ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন সফরে যাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
উপাচার্যের সঙ্গে এই সফরে অংশ নিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক। আগামীকাল ৩০ মে থেকে শুরু হয়ে আগামী ২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই আন্তর্জাতিক সফর চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিখ্যাত ‘RESHAPE (Regenerating Socio-Cultural Sustainability and Planetary Wellbeing in Higher Education: Global Partnership)’ শীর্ষক ইরাসমাস+ (Erasmus+) প্রকল্পের আওতায় এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এই কর্মসূচির মূল আয়োজক ফিনল্যান্ডের টুরকু ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্স। এ ছাড়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অব গ্যাভলে এবং ফিনল্যান্ডের লরিয়া ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্স।
ইউরোপ সফরে যাওয়া লোক প্রশাসন বিভাগের পাঁচ অধ্যাপক হলেন—বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলফিকার হোসেন এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের নির্বাচিত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ অন্যতম—যারা এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে।
এর আগে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বিভাগটির উদ্যোগে এই প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে একটি বিশেষ উপস্থাপনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় প্রকল্প সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং অনুষ্ঠানে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এই আন্তর্জাতিক সফরটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সফরের মাধ্যমে শিক্ষকেরা ইউরোপের আধুনিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা, উচ্চপর্যায়ের গবেষণা পদ্ধতি, উদ্ভাবনী শিক্ষাদান কৌশল, আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা কাঠামো এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক একাডেমিক চর্চা সম্পর্কে বাস্তব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা ও দ্বিপাক্ষিক একাডেমিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, এই সফরে বিভাগের শিক্ষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে উপাচার্য নিজে অংশ নিচ্ছেন।
ফলে এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও উপস্থিতির একটি বড় বহিঃপ্রকাশ। উপাচার্যের এই অংশগ্রহণ বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব এবং উচ্চপর্যায়ের একাডেমিক সংলাপকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজকের কথা ডেস্ক