প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তিন দশকের দাম্পত্য বন্ধনে প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার দম্পতি

সাংবাদিক বাশার
আজকের কথা ডেস্ক

দাম্পত্য বন্ধনে প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার দম্পতির কেটে গেল তিন দশক। কুমিল্লার দেবীদ্বারের সুপরিচিত প্রবীণ সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক এবিএম আতিকুর রহমান বাশারের দাম্পত্য জীবনের ৩০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গনের অসংখ্য মানুষ। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও ভালোবাসার পথচলার এই বিশেষ দিনটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া।

শুক্রবার (২৯ মে) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক আবেগময় স্ট্যাটাসে এবিএম আতিকুর রহমান বাশার লিখেন—

“২৯ পেরিয়ে ৩০ বছরে পদার্পণ

—

যুগল বন্ধনে আটক থেকে এক সাথে পথ চলায় আজ ২৯ পেরিয়ে ৩০শে পদার্পণ।

এরই মাঝে অর্জণ ‘প্রতিভা- প্রজ্ঞা- ওয়াফি’।
ওরা যেন মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এবং আমাদের জন্যও দোয়া করবেন।”

তার এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পরপরই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বন্যায় ভেসে যায় কমেন্ট বক্স। সাংবাদিক, রাজনীতিক, শিক্ষক, সাহিত্যিক, সামাজিক সংগঠকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শুভকামনা জানান এই গুণী সাংবাদিক দম্পতিকে।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এবিএম আতিকুর রহমান বাশার কেবল সংবাদ পরিবেশনেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং সমাজের নানা অসঙ্গতি, মানুষের অধিকার, স্থানীয় ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বর্তমানে তিনি প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবিএম আতিকুর রহমান বাশার স্থানীয় সাংবাদিকতায় এক পরিচিত ও সম্মানিত নাম। পেশাগত জীবনের সততা, সাহসী অবস্থান এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কারণে তিনি কুমিল্লাসহ বৃহত্তর অঞ্চলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তিনি একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।

সম্প্রতি বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে কুমিল্লায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে “নিরাপদ সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে বিশেষ অবদান” রাখার জন্য তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। সহকর্মীদের মতে, সংবাদপত্রের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা অনুকরণীয়।

সাংবাদিকতার বাইরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণেও রয়েছে তার অসামান্য অবদান। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেবীদ্বার অঞ্চলের বীরত্বগাথা, শহীদদের স্মৃতি এবং যুদ্ধকালীন নানা ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে বিভিন্ন সভা-সেমিনার, আলোচনা সভা এবং স্মৃতিচারণমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করে থাকেন তিনি।

এছাড়াও সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের রাজনীতির সাথেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে তাকে সবসময় সরব দেখা যায়।

ব্যক্তিজীবনে একজন দায়িত্বশীল পরিবারপ্রেমী মানুষ হিসেবেও পরিচিত এবিএম আতিকুর রহমান বাশার। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে এসেছে তিন সন্তান— প্রতিভা, প্রজ্ঞা ও ওয়াফি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার স্ট্যাটাসে সন্তানদের “মানুষের মতো মানুষ” হওয়ার যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, তা অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

সহকর্মীরা বলছেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে যেমন তিনি নীতিবান ও সাহসী, তেমনি ব্যক্তি জীবনেও অত্যন্ত বিনয়ী, মানবিক ও পারিবারিক মূল্যবোধসম্পন্ন একজন মানুষ। জীবনের প্রতিটি সংগ্রামে সহধর্মিণীর সহযোগিতা ও সমর্থন তাকে সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি যুগিয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।

দাম্পত্য জীবনের ৩০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে শুভানুধ্যায়ীরা এই গুণী দম্পতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী জীবনের কামনা করেছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকতা, গবেষণা ও সমাজসেবায় এবিএম আতিকুর রহমান বাশারের অবদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে— এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।

প্রিন্ট করুন