পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সামাজিক সংগঠন ‘আমার গ্রাম আমার দায়িত্ব’। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকরা ঈদের দিন সকাল থেকেই দেবীদ্বার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চাপানগর, সাইলচর ও বিজলীপাঞ্জার গ্রামে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এ উদ্যোগ। কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি।
সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, কোরবানির পর পশুর রক্ত ও বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ রোধে তারা টানা তিন দিনব্যাপী বর্জ্য অপসারণ, জীবাণুনাশক ছিটানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তারা আরও জানান, কোরবানির পরপরই নির্ধারিত স্থান থেকে পশুর বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রক্তমাখা মাটিতে ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট গর্তে মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর মতে, তরুণদের এই স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের ফলে এবার গ্রামগুলোতে ঈদ-পরবর্তী সময়ের চিরচেনা দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়নি। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চাঁপানগর গ্রামের বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন হাজারী বলেন, “সাধারণত গ্রামের মানুষ দায়সারাভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করেন, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে যায়। কিন্তু ‘আমার গ্রাম আমার দায়িত্ব’ সংগঠনের সদস্যরা গত তিন দিন ধরে যেভাবে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বর্জ্য অপসারণ করেছে, তাতে রোগজীবাণুর বিস্তারের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমেছে।”
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাংবাদিক এ আর আহমেদ হোসাইন বলেন, “ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্য যত্রতত্র পড়ে থাকলে পরিবেশ দূষিত হয় এবং দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এ সমস্যা সমাধান এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ও পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতেই আমরা ঈদের দিন সকাল থেকে মাঠে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের গ্রাম, আমাদের ওয়ার্ড ও আমাদের শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবার আগে আমাদের নিজেদের। পবিত্র কোরবানির পর পশুর বর্জ্য যেন কোনোভাবেই মশা-মাছির উপদ্রব, দুর্গন্ধ বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ না হয়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।”
সংগঠনটির এমন জনকল্যাণমুখী ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে পরিচালিত এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার :