দেবীদ্বারে খালে গোসল করতে নেমে স্রোতে তলিয়ে শিশুর মৃত্যু, ৩ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
কুমিল্লার দেবীদ্বারে খালে গোসল করতে নেমে পানির প্রবল স্রোতে তলিয়ে ফারিয়া আক্তার (৮) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।
সোমবার (১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ১নং বড়শালঘর ইউনিয়নের সংচাইল বাসস্ট্যান্ড ব্রিজসংলগ্ন তিতাস নদীর শাখা ‘লক্ষার খাল’-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারিয়া আক্তার সংচাইল গ্রামের প্রভাতী ফিশারিজের কর্মচারী মো. শাহাদাত হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফারিয়া তার বড় বোন সামিরা (১১) এবং আরও কয়েকজন শিশুর সঙ্গে খালে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে খালের প্রবল স্রোতে ফারিয়া ভেসে যেতে শুরু করলে তার বড় বোন সামিরা তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের চিৎকার শুনে পাশের এক নারী সামিরাকে টেনে তোলেন। তবে সামিয়ার হাত থেকে ফারিয়া ছিটকে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়।
প্রতিবেশী সফিউল্লাহ জানান, গোসলে নামা শিশুদের অধিকাংশই সাঁতার জানত। কিন্তু হঠাৎ প্রবল স্রোতের কারণে ফারিয়াকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন।
পরে খবর পেয়ে মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশির পর বিকেল ৩টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১নং বড়শালঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল সরকার জানান, স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “খালটি তিতাস নদীর শাখা হওয়ায় পানির স্রোত অনেক বেশি ছিল। এছাড়া ঘটনাস্থলে প্রচুর কচুরিপানা জমে ছিল। প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে কচুরিপানার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।”
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “পরিবারের কয়েকজন সদস্য খালে গোসল করতে নামলে দুই বোন স্রোতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অপরজনকে পরে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার :