প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কুমিল্লায় সিনেমাকেও হার মানানো অপহরণ: দ্বিতীয় তলা থেকে কিশোরীকে তুলে নিল দুর্বৃত্তরা

লাকসামে কিশোরী অপহরণ
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

কুমিল্লায় গভীর রাতে দুঃসাহসিক অপহরণ: ছাদ বেয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

কুমিল্লার লাকসামে গভীর রাতে এক কিশোরীকে ঘর থেকে দুঃসাহসিক কায়দায় তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অপহরণের ঘটনাটি অনেকেই ‘ফিল্মি স্টাইলের অপারেশন’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৯টার দিকে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

নগদ ১৭ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণ লুটের অভিযোগ; ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য

অপহৃত তাহমিনা আক্তার স্মৃতি (১৬) লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের হারাখাল গ্রামের প্রবাসী আলম মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযুক্ত মো. মাসুদ (৩২) ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে তিনি কিশোরীর আত্মীয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, স্মৃতির সঙ্গে মাসুদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাসুদ তাকে নিয়ে পালিয়ে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৭ দিন পর কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং মাসুদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্ত হন।

পরিবারের অভিযোগ, সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাসুদ তার সহযোগীদের নিয়ে কিশোরীর বাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ও ছাদ বেয়ে দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করে। এ সময় কিশোরীর মা-বাবাকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

এরপর দ্বিতীয় তলা থেকে কিশোরীকে জোরপূর্বক নিচে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা যাওয়ার সময় ঘরে থাকা প্রায় ১৭ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক একটি ভবনের ছাদ থেকে এক তরুণীকে কাঁধে বহন করে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কিশোরীর বাবা আলম মিয়া বলেন, “এর আগেও আমার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছিল। তখন পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু এবার গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে হামলা চালিয়ে মেয়েকে আবারও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কল্পনাও করতে পারিনি। আমি আমার মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।”

তিনি আরও জানান, বাড়িতে থাকা আটটি সিসিটিভি ক্যামেরায় হামলাকারীদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপহরণ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত কিশোরীকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন