প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশকে দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

image 296172 1780466004
আজকের কথা ডেস্ক

বাংলাদেশকে দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের নামও রয়েছে।

বাংলাদেশের রপ্তানিতে নতুন শঙ্কা, অতিরিক্ত শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, এ বিষয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে প্রস্তাবিত শুল্ক বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ‘সেকশন ৩০১’ তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা ও ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া তালিকাভুক্ত আরও ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্কের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার। ফলে অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দেশের তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারাতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়, শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জনমত গ্রহণ ও শুনানির পর যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে। এছাড়া বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশেষ ছাড় বা অব্যাহতির সুযোগ রাখা হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সরকারকে দ্রুত কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন