প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা মুরাদনগরের নাজনীন

মীর হাছিনা নাজনীন
আজকের কথা ডেস্ক

শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন মুরাদনগর উপজেলার সাতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মীর হাছিনা নাজনীন। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে জেলার সেরা প্রধান শিক্ষিকার এই গৌরবজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান এবং সদস্য সচিব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার এ সাফল্যের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর আওতায় জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক যোগ্যতা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম এবং সামগ্রিক নেতৃত্বের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে জেলা বাছাই কমিটি। কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) ক্যাটাগরিতে সেরা নির্বাচিত হন মীর হাছিনা নাজনীন।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে তিনি মুরাদনগর উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা (মহিলা) নির্বাচিত হন। উপজেলা পর্যায়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার জেলা পর্যায়েও সেরার স্বীকৃতি অর্জন করে তিনি মুরাদনগর তথা কুমিল্লার শিক্ষা অঙ্গনে নতুন গৌরব যোগ করেছেন।

২০১৩ সালে সাতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মীর হাছিনা নাজনীন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন তিনি।

তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুম কার্যক্রম চালু ও সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, সহশিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শুধু শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নই নয়, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও দক্ষ নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।

শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন মীর হাছিনা নাজনীন। তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার মাস্টার ট্রেইনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্যান্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং শিক্ষার মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে।

এর আগেও ২০২৪ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। ধারাবাহিক সাফল্য, সততা, কর্মনিষ্ঠা এবং শিক্ষার প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার কারণে তিনি শিক্ষক সমাজে একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

এ অর্জনে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মীর হাছিনা নাজনীন। তিনি বলেন, “এই সম্মাননা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব।”

তার এই কৃতিত্বে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মীর হাছিনা নাজনীনের এ অর্জন মুরাদনগরের শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবে।

প্রিন্ট করুন