প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে বাস উল্টে নিহত ১, আহত অন্তত ১৫

দেবীদ্বার বাস দুর্ঘটনা
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার :

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে বাস উল্টে কুমিনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে এক নারী যাত্রী নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার ভিড়াল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নারী যাত্রীর নাম লিজা আক্তার (৩০)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার দামপাড়া গ্রামের মীর করিমের স্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, লিজা আক্তার চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আফরোজা পরিবহনের একটি নাইট কোচ কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার উপজেলার ভিড়াল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটি সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং বাসে থাকা অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ, মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এবং মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।গুরুতর আহত সাতজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আহতদের দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী রবিউল ইসলাম জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিক্রম করার পর থেকেই বাসচালক বেপরোয়া ও এলোমেলোভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যাত্রীরা কয়েকবার সতর্ক করলেও তিনি তা আমলে নেননি। দেবীদ্বার এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে। তিনি জানান, বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন এবং অধিকাংশই তখন ঘুমিয়ে ছিলেন।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাগর সাহা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালক ঘুমিয়ে পড়ায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এবং মীরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. আক্তারুজ্জামান জানান, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরানোর জন্য রেকার আনা হয়েছে। বাসটি অপসারণের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বাসের নিচে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রিন্ট করুন