চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলায় কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। মাত্র ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট জমা দেওয়ায় মামলাটির দ্রুত অগ্রগতি আলোচনায় এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তদন্ত কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভীর আহমেদ চট্টগ্রাম আদালতে থাকা নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় এ চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানভীর আহমেদ জানান, ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিট সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আদালত তা গ্রহণ করেছে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, গত ৩ জুন ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষের পাশে খেলছিল চার বছরের শিশুটি। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে শিশুটিকে কৌশলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত মনির হোসে
অভিযুক্ত মনির হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার মিয়াখাননগর এলাকায় বসবাস করতেন। ঘটনার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানায়, একদল ব্যক্তি আসামিকে থানায় নেওয়ার সময় বাধা দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হন। পাশাপাশি পুলিশবাহী কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
পরবর্তীতে এসব ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

আজকের কথা ডেস্ক