কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশনে ট্রেনে ওঠার সময় কৃত্রিম জটলা সৃষ্টি করে যাত্রীদের মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হকের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ভৈরব পৌর শহরের পঞ্চবটী এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (২৮), নরসিংদীর পলাশ উপজেলার উত্তর চন্দন এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সবুজ মিয়া (২২), কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এতরায়পুর এলাকার মবিন মিয়ার ছেলে হাসান (২০), কুমিল্লা সদর কোতোয়ালি এলাকার মুরাপাড়া গ্রামের বাতেন মিয়ার ছেলে নুর আলম (২০) এবং শুভপুর এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে বিপ্লব আহসান (২৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৬ জুন) রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম আউটার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রী ওঠার মুহূর্তে কৃত্রিম ভিড় ও জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় একটি চক্র। গোপন নজরদারির মাধ্যমে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ।
এদিকে রবিবার দুপুরের দিকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এক যাত্রীর মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে বাবুল মিয়াকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধভাবে মোবাইল ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল একটি চক্র। যাত্রীদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তারা ট্রেনে ওঠা-নামার সময় জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিত।
তিনি বলেন, “বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে। এরপর আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।”
আদালতের রায়ে নুর আলম ও বিপ্লব আহসানকে তিন মাস করে কারাদণ্ড, সবুজ মিয়া ও হাসান মিয়াকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং বাবুল মিয়াকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ওসি আরও জানান, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় যাত্রী হয়রানি, চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

আজকের কথা ডেস্ক