প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘জয় বাংলা’ বললেই গ্রেপ্তার? মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান নিয়ে তুমুল প্রশ্ন

জয় বাংলা নিয়ে গ্রেপ্তার
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

‘জয় বাংলা’ বললেই গ্রেপ্তার? মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান নিয়ে নতুন বিতর্ক

চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার ২; প্রশ্ন তুলছেন অনেকে

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ‘জয় বাংলা’ যদি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান স্লোগানটির অবস্থান কী?

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে বোয়ালখালী উপজেলার আরাকান সড়কের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হাজী নুরুল হক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ (২৬) এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য মো. রায়হান (২৩)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার একটি মেহেদি অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে পরদিন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ‘জয় বাংলা’ ছিল মুক্তিকামী মানুষের প্রধান অনুপ্রেরণার স্লোগান। সেই স্লোগান উচ্চারণকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারের ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে আইনের আওতায় আনা হলে সেটি এক বিষয়, কিন্তু একটি ঐতিহাসিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়া জাতির জন্য অস্বস্তিকর। তাদের ভাষ্য, ‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি জাতীয় ইতিহাসের অংশ।

তবে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের কারণ শুধুমাত্র স্লোগান নয়। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনকে জুলাইয়ের গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—একটি ঐতিহাসিক স্লোগান, রাজনৈতিক পরিচয় এবং চলমান মামলার বিষয়গুলো কি একসঙ্গে মিশে যাচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন