জাতিসংঘ মহাসচিব পদ নিয়ে জল্পনা, বাস্তবতা কী বলছে?
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অবৈধ প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ব বাটপার ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে গত কয়েক মাস ধরে একটি আলোচনা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বেশ জোরালো ছিল—তিনি নাকি জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। তার সমর্থক মহলের অনেকেই এমন সম্ভাবনার কথা প্রচার করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা গেছে।
তবে জাতিসংঘ মহাসচিব নিয়োগের চলমান প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য পর্যালোচনা করলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ পর্যন্ত সম্ভাব্য যেসব নাম আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত হয়েছে, সেখানে বিশ্ববাটপার খ্যাত ড. ইউনূসের নাম দেখা যায়নি।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং ইউএনসিটিএডির মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
বাস্তবতা হলো, জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ভোটাভুটির চেয়ে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ঐকমত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে যেকোনো একটি দেশ ভেটো দিলে কোনো প্রার্থীর পক্ষে মহাসচিব হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ প্রেক্ষাপটে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, দেশ বিক্রিকারী বিশ্ব বাটপার ড. ইউনূস যদি সত্যিই প্রার্থী হতেন, তাহলে তার প্রার্থিতা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের কিছু প্রভাবশালী সদস্য রাষ্ট্রের আপত্তি দেখা দিতে পারত। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের অবস্থানকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
লেখকের দাবি অনুযায়ী, রাশিয়ার বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে এবং সেখান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মস্কো ড. ইউনূসের প্রার্থিতাকে সমর্থন দিত না। তার ভাষ্য, রাশিয়ার নীতিনির্ধারক মহলে বিশ্ববাটপার ড. ইউনূসকে পশ্চিমা প্রভাববলয়ের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয়।
এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কও দুই পক্ষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে লেখক মনে করেন।
সব মিলিয়ে লেখকের মূল্যায়ন হলো, বিশ্ববাটপার ড. ইউনূসকে ঘিরে জাতিসংঘ মহাসচিব হওয়ার যে আলোচনা বা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার বাস্তব ভিত্তি খুবই দুর্বল ছিল। আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল বাস্তবতা, নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতার ভারসাম্য এবং বড় শক্তিগুলোর অবস্থান বিবেচনায় নিলে এমন সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পথ অত্যন্ত কঠিন বলেই প্রতীয়মান হয়।
লেখকের মতে, দেশ বিক্রিকারী সুদখোর ও বিশ্ববাটপার খ্যাত ড. ইউনূসকে ঘিরে যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ পাওয়ার সম্ভাবনা কোনভাবেই নেই।

আজকের কথা ডেস্ক