পূর্ব বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ, বরিশাল মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন দম্পতি
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী গ্রামে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর গর্ভপাত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত ওই গৃহবধূ আফসানা ও তার স্বামী মো. আলী আকবর বর্তমানে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালেও অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাজাবাড়ী গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি আলী আকবরের ওপর হামলা চালান। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান তার স্ত্রী আফসানা। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা আলী আকবরের পাশাপাশি আফসানার ওপরও হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করেন।
পরিবারের ভাষ্যমতে, হামলার সময় আফসানা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মারধরের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
আহত আফসানার বাবা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েকে ও জামাতাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু পথে ইন্দেরহাট বাজার এলাকায় পৌঁছালে আবারও তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে আহতদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
পরে তাদের প্রথমে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা।
শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার জন্য হামলাকারীরাই দায়ী। নির্মম মারধরের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমার জামাতার অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে থাকলেও মেয়ের শারীরিক অবস্থা এখনও উদ্বেগজনক।”
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অনিক বলেন, “আমরা কারও ওপর হামলা করিনি। বরং আমাদের পরিবারের সদস্যরাই হামলার শিকার হয়েছেন।” একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত চাঁন মিয়া ও রওশনারাও।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে জিডিতে গর্ভপাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসা সংক্রান্ত সনদ, মেডিকেল রিপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের দেওয়া সাধারণ ডায়েরিটি আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি শুধু একটি হামলার ঘটনা নয়, বরং একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর জীবনে ভয়াবহ ট্র্যাজেডির উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আজকের কথা ডেস্ক