প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘পুলিশ হত্যা করেছি’ বলে আলোচনায় আসা সেই মাহদী এবার আশ্রয় নিলেন পুলিশের কাছেই

মাহদী হাসান
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

‘পুলিশ হত্যা করেছি’ বলে আলোচনায় আসা সেই মাহদী এবার আশ্রয় নিলেন থানায়

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসান আবারও আলোচনায়। বিভিন্ন সময় বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচিত এই ছাত্রনেতা এবার নিজের নিরাপত্তার দাবি তুলে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়ক এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া করে হামলার চেষ্টা করছেন। পরে তিনি সরাসরি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় প্রবেশ করেন।

লাইভ ভিডিওতে মাহদী অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের জেরে একটি পক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাকে অনুসরণ করে হামলার পরিকল্পনা করছে। এ কারণে তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান।

তবে মাহদীর এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, ফেসবুক লাইভে তার অভিযোগের পক্ষে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিডিওতে মাহদীর আশপাশে কাউকে তাড়া করতে বা ধাওয়া দিতে দেখা যায়নি বলেও তারা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, “মাহদী হাসানের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার লাইভ ভিডিও পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সেখানে কোনো ধাওয়া বা হামলার চিত্র নেই। ছাত্রদলকে বিতর্কিত করতেই এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।”

ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক খান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে পুলিশের একটি জরুরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।

উল্লেখ্য, মাহদী হাসান এর আগেও একাধিক ঘটনায় আলোচনায় ও সমালোচনায় এসেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে দেওয়া একটি ফেসবুক লাইভ এবং বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

এছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বানিয়াচং থানার এক উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরেও হবিগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে, আবার মাহদীর নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রিন্ট করুন