প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল সিএনজি চালকের, অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান

চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে সিএনজি চালক নিহত
আজকের কথা ডেস্ক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যের ছুরিকাঘাতে এক সিএনজি অটো রিক্সাচালক মারা গেছেন। নিহত সিএনজি চালকের নাম মো. হৃদয় (২৪)।

বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্যার ছেলে। রাত ১১টার দিকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে স্থানীয় দুই কিশোরের মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার পরও পরে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

নিহতের সিএনজি চালকের বন্ধু রাকিব জানান, কথাকাটাকাটির জের ধরে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে হৃদয় তার সিএনজি গ্যারেজে রাখার জন্য স্থানীয় ওয়াসিমের গ্যারেজে প্রবেশ করলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন কিশোর তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে বুকে ও পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সিএনজি চালক হৃদয়কে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সিএনজি চালকের বড় ভাই ফারুক হোসেন বলেন, “আমার ভাই পেশায় সিএনজি ড্রাইভার ছিল। সন্ধ্যায় সে আমার কাছ থেকে চা খাওয়ার জন্য কিছু টাকা নিয়ে বের হয়েছিল। পরে খবর পাই, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আকিব মাহমুদ মাহি জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে হৃদয়কে হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রিন্ট করুন