প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর যাবার পরপরই তুলে নেয়া হলো সেই রাস্তার ইট সফরে, বৃষ্টিতে কাদায় ডুবছে জনপদ

প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভাড়ার ইটের রাস্তা
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তৈরি হওয়া একটি সড়ক এখন স্থানীয়দের হাস্যরস ট্রল ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সফরের আগে রাতারাতি কাঁচা রাস্তায় ইট-বালু ফেলে চলাচল উপযোগী করা হলেও তার সফর শেষ হওয়ার পরপরই সেই ইট তুলে নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক রসালো হাস্যরস ব্যাঙ্গাত্মক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সফর উপলক্ষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট ও বালু ফেলে পরিস্কার ঝকেঝকে চলাচলের ব্যবস্থা করে।

তবে সফর শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ওই সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়া হয়।

বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি আবারও কাদাময় হয়ে পড়েছে। এতে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি চলার জন্য রাতারাতি রাস্তা তৈরি হলেও সাধারণ মানুষের চলাচলের কথা কেউ ভাবেনি। এতে স্পষ্ট বুঝাযায় জনগনের কোন মূল্যই নাই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নশিপুর ইউনিয়নের ওই সড়কটি পাকাকরণের জন্য আগেই এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত বছরের আগস্টে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশও দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে দ্রুত সড়কটি লোক দেখানো চলাচল উপযোগী করতে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ কাজে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

অথচ সফর শেষ হওয়ার পর সেই ইটও তুলে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির বগুড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, সড়কটি স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। যেহেতু মূল কাজ শুরু হয়নি, তাই প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় অস্থায়ীভাবে সোলিং করা হয়েছিল। পরে সেই ইট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ইটগুলো কেনা হয়নি, বরং ভাড়ায় আনা হয়েছিল। ইট কিনলে ব্যয় আরও বেশি হতো। তাই নিয়ম মেনেই অস্থায়ীভাবে ব্যবহার শেষে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি কার্পেটিংয়ের জন্য গত অর্থবছরে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মূল সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।

গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানান, সড়কের জমি ও সীমানা সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে ঠিকাদারকে সাইট বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে রাস্তার পাশে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে দ্রুত রাস্তা ব্যবহার উপযোগী করতে ইট বিছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় ১৫০ মিটার অতিরিক্ত রাস্তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজসহ মোট ব্যয় প্রায় ১০ লাখ টাকা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থ এখনও ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়নি।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যদি সড়ক নির্মাণের জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং কার্যাদেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল কেন? আর শুধু প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় একটি সড়কে স্থায়ী উন্নয়নের পরিবর্তে কেন ‘ভাড়ার ইট’ দিয়ে সাময়িক সমাধানের পথ বেছে নেওয়া হলো?

এদিকে বর্ষার শুরুতেই কাঁচা রাস্তাটি কাদাময় হয়ে পড়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত সড়কের স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরু ও শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন