বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইও। ম্যাচে সরাসরি ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি গড়েছেন বিরল রেকর্ড। ২০২২ বিশ্বকাপের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচিত এই রেফারি ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই কঠোর রেফারিংয়ে আবারও শিরোনামে উঠে এসেছেন।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শেষ হলেও আলোচনা কিছুতেই থামছে না ব্রাজিলিয়ান সেই রেফারি উইলটন সাম্পাইওকে ঘিরে। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে আবারও তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এই রেফারি। এ নিয়ে অনেকে বলেছেন অভিজ্ঞ রেফারি আবার অনেকে ভিন্নমতও পোষণ করেছেন।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সাম্পাইও নতুন কোনো নাম নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের কোয়ার্টার ফাইনালে হ্যারি কেইনের একাধিক পেনাল্টি আবেদনে সাড়া না দেওয়াসহ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। একই বিশ্বকাপে পোল্যান্ড-সৌদি আরব ম্যাচেও তার ভিএআর ও কার্ড ব্যবস্থাপনা নিয়ে তখন প্রশ্ন উঠেছিল।
তবে সেই বিতর্ককে পেছনে ফেলে দিয়ে আবারও তার ওপরই আস্থা রাখে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে।
মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সাম্পাইওর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন ব্রাজিলের সহকারী রেফারি ব্রুনো পিরেস ও ব্রুনো বোসকিলিয়া। চতুর্থ কর্মকর্তা ছিলেন প্যারাগুয়ের হুয়ান গ্যাব্রিয়েল বেনিতেজ। ভিএআর পরিচালনা করেন কলম্বিয়ার নিকোলাস গাইয়ো, সহকারী ভিএআর ছিলেন চিলির হুয়ান লারা এবং সাপোর্ট ভিএআর হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ফ্রান্সের জেরোম ব্রিসার্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিলেন রেফারি সাম্পাইও। ৯ মিনিটে হুলিয়ান কিনোনেসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক মেক্সিকো। ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন তিনি।
প্রথমার্ধে দুটি হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ১৬ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার তেবোহো মোকোয়েনা এবং ২২ মিনিটে মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেজ সতর্কবার্তা পান।
তবে ম্যাচের আসল নাটক শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৯ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেহলো সিথোলে প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান সাম্পাইও।
এরপর ৮৩ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার থেমবা জোয়ানে প্রতিপক্ষের মুখে আঘাত করলে ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়।
নাটকীয়তার শেষ অধ্যায় আসে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে। মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্তেস প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ ঠেকাতে ফাউল করলে তাকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান সাম্পাইও। ফলে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই দুই দল মিলে মাঠে দেখে তিনটি লাল কার্ডের নজির।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এত সংখ্যক লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা বিরল। ফুটবল পরিসংখ্যানবিদদের মতে, এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
আরও একটি কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য হলো—বিশ্বকাপে যে অল্প কয়েকটি ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, সেগুলোর একটি ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেনমার্ক ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ। সেবারও দক্ষিণ আফ্রিকা একটি লাল কার্ড দেখেছিল।
শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো ২-০ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রেফারি উইলটন সাম্পাইও। তার দেখানো তিনটি লাল কার্ডের কারণে বহিষ্কৃত তিন ফুটবলারই গ্রুপ ‘এ’-এর পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :