অভিযোগের তদন্তে গঠন করা হয়েছে কমিটি
কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর এক স্বজনকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর হাসপাতাল প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর মোহাম্মদ আলম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কিছু তথ্য-উপাত্ত পাওয়ায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) হাসপাতালের অভ্যন্তরে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন মো. উবায়দুল্লাহর সঙ্গে ডা. ইসরাত জাহান মৌয়ের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার পর মো. উবায়দুল্লাহ হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠকে বসে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করে হাসপাতাল প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ডা. ইসরাত জাহান মৌকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নূর মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন, “একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগকারী মো. উবায়দুল্লাহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌও তার অবস্থান ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল করিম বলেন, “অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডা. ইসরাত জাহান মৌকে সাময়িকভাবে সব ধরনের দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতালের রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিক আচরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

মো. মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ থেকে :