
কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড়আলমপুর ও বিনাইপাড় গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৬৩টি বাড়ির প্রতিনিধিদের নিয়ে এক মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টায় বড়আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় দুই গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস থাকা বড়আলমপুর ও বিনাইপাড় এলাকায় মাদকাসক্তি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিশোর, তরুণ, যুবক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক কলহ, চুরি, ছিনতাই ও নানা ধরনের অপরাধ বাড়ছে। সম্প্রতি মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে এক মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে পিতা নিহত হওয়ার ঘটনাও এলাকাবাসীকে নাড়া দিয়েছে।
বক্তারা আরও জানান, চলতি বছরে মাদকাসক্তদের মধ্যে ১৩ জনকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং মোবাইল কোর্ট ও বিভিন্ন মামলার মাধ্যমে ২৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হলেও মাদক সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং শাহজালাল জুয়েলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম সফিক, ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, সাবেক পৌর কমিশনার সফিকুল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম, মো. সেলিম মাস্টার, মো. হুমায়ূন কবির, মো. সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীব, মো. মাহফুজ নান্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, মাদক নির্মূলে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পারিবারিক কাউন্সেলিং ও সামাজিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি।
সভা থেকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর কিশোর ও তরুণদের দলবেঁধে নদীর পাড় বা নির্জন স্থানে আড্ডা দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সচেতন নাগরিকরা বড়আলমপুর আদর্শ গ্রামের সুনাম ও সামাজিক ঐতিহ্য রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

