প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

কুমিল্লা বোর্ডে ৮ কলেজে শূন্য পরীক্ষার্থী, এইচএসসিতে অংশ নিতে পারছে না কেউ

কুমিল্লা বোর্ডে ৮ কলেজে শূন্য পরীক্ষার্থী
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও অংশ নিতে পারছে না। পরীক্ষার্থী শূন্য থাকার এই বিরল ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার মান, কলেজ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং বোর্ডের মূল্যায়ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার্থীশূন্য আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি কলেজে এবার একজন শিক্ষার্থীও নিবন্ধন করেনি। অপর চারটি প্রতিষ্ঠানে মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও তারা কেউ চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।

পরীক্ষার্থীশূন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ও কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লার তিতাস মডেল কলেজ, উলুকান্দি কলেজ, বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, সিসিএন মডেল কলেজ এবং ফেনীর নোবেল কলেজ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা বোর্ডের কঠোর মূল্যায়ন নীতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) সালাহউদ্দিন জানান, এবার মূল্যায়ন পরীক্ষায় দুইটির বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। কলেজগুলো সেই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করায় কোনো অযোগ্য শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এই নীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানান, ২০১২ সালে কলেজ শাখা চালুর পর এবারই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ১০ শিক্ষার্থীর কেউই মূল্যায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় তারা চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষাবিদদের মতে, পরিকল্পনাহীনভাবে কলেজ শাখা অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটও এমন পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জামাল নাসের বলেন, অনেক উচ্চ বিদ্যালয়ে কলেজ শাখা চালু করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এতে আর্থিক সংকট, শিক্ষার মানের অবনতি এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এদিকে ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে শিক্ষা বোর্ড প্রশাসন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারছে না, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন কিংবা স্বীকৃতি বাতিলের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছাত্র ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। এবার ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি।

প্রিন্ট করুন