
কুমিল্লার দেবীদ্বারের নবাগত ইউএনও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে টানা কয়েকদিন ধরে চলা এই শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অতিরিক্ত ফুলেল সংবর্ধনা কি দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে?
গত সোমবার (১৫ জুন) দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন অশোক বিক্রম চাকমা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে প্রতিদিনই তার কার্যালয়ে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
দেবীদ্বারের নবাগত ইউএনও যোগদানের পর এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ এটিকে নতুন কর্মকর্তার প্রতি সৌজন্য ও শুভেচ্ছা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে অতিরিক্ত তোষামোদ বা ‘ফুলের রাজনীতি’ বলেও মন্তব্য করছেন।
দেবীদ্বারের প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “শুনলাম ইউএনও অফিসে নাকি প্রচুর ভিড় থাকে, ফুলের শুভেচ্ছা নিতে নিতে ইউএনও হয়রান।”
তার ওই পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে সিরাজুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, “সরকারের উচিত সরকারি কর্মকর্তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর সংস্কৃতি বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া। তাহলে তোষামোদও কমবে।”
অন্যদিকে গোলাম কিবরিয়া নামে একজন মন্তব্য করেন, “উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শুভেচ্ছা জানাতে পারেন, সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু অন্যদের এত ফুল দেওয়ার প্রয়োজন কী? তিনি তো জনগণের সেবা করতেই এসেছেন। ফুল নিতে নিতে যেন বিদায়ের সময় না হয়ে যায়।”
এদিকে দেবীদ্বার-৪ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া এক সাবেক এমপি প্রার্থীর ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “দাপ্তরিক কাজে সরাসরি কোনো বিঘ্ন ঘটছে না। তবে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। কুমিল্লার মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। দেবীদ্বারের মানুষের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ।”
প্রসঙ্গত, অশোক বিক্রম চাকমা ৩৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সম্প্রতি দেবীদ্বারে যোগদান করেন। তিনি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জীপতলী এলাকার বাসিন্দা।
নবনিযুক্ত ইউএনওকে ঘিরে ফুলেল শুভেচ্ছার এই ব্যতিক্রমী চিত্র এখন দেবীদ্বারজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে অনেকের মতে, শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কাজের পরিবেশও স্বাভাবিক রাখা জরুরি।

